আন্তর্জাতিক

ইরানে হামলা করা ভুল হবে: তুরস্ক

সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক।

Advertisement

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ইরানে হামলা করা ভুল। আবার যুদ্ধ শুরু করাও ভুল। ইরান আবার পরমাণু ইস্যুতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, আমি সবসময় আমার মার্কিন বন্ধুদের বলি—ইরানিদের সঙ্গে বিষয়গুলো একে একে সমাধান করুন। প্রথমে পরমাণু ইস্যু দিয়ে শুরু করুন। সেটা মিটলে পরে অন্য বিষয়গুলোতে যান।

তার এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি যুদ্ধবহর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।

Advertisement

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ইরানে বিক্ষোভ দমনে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নাকচ করেনি।

ইন্টারনেট বন্ধসহ কঠোর দমননীতির পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনো কঠোর, কখনো নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন।

ন্যাটো সদস্য তুরস্ক বরাবরই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে এসেছে।

গত সপ্তাহে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের পরিস্থিতিকে একটি নতুন পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে—এমন যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে তুরস্ক অবস্থান নেবে।

Advertisement

তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন যে কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে ইরান এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে পারবে।

বুধবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে ফোনালাপ হয়। সেখানে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয় বলে এক তুর্কি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

আল-জাজিরাকে ফিদান বলেন, ইরানের সঙ্গে সমস্যাগুলো আলাদাভাবে সমাধান করা উচিত। সব বিষয় একসঙ্গে প্যাকেজ করলে ইরানের পক্ষে তা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এতে ইরান নিজেদের জন্য অপমানজনক মনে করতে পারে, যা তাদের নেতৃত্বের কাছেও ব্যাখ্যা করা কঠিন হবে।

ফিদান জানান, গত বছর তেহরান সফরের সময় তিনি ইরানকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি সম্ভব বলে মনে করেন।

সূত্র: এএফপি

এমএসএম