ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রাচীন জনপদ কুমিল্লা। এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ লেগেছে কুমিল্লায়। বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জনসভায় আগামীর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
Advertisement
নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার না থাকলেও শহরজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের সাদাকালো ব্যানার। রিকশা-অটোরিকশায় মাইকিং করে চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এরই মধ্যে কুমিল্লায় জনসমাবেশ করেছে। সেখানে নির্বাচনে বিজয়ী হলে কী কী করবেন, তার ঘোষণা মঞ্চ থেকে দেওয়া হয়। ইশতেহার ও আশ্বাস নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর অন্যতম স্থান রেসকোর্স এলাকার কুমিল্লা ডায়াবেটিস হাসপাতাল রোডের ছোট চায়ের দোকানেও চলছে নির্বাচনি আলাপ। সেই আলাপে যুক্ত হয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শুনতে থাকি নির্বাচন নিয়ে তাদের ভাবনার কথা।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ফারুক নামের একজন শিক্ষার্থী জানান, জীবনে প্রথমবারের মতো এবার তিনি ভোট দেবেন। শহরের আধুনিক নাগরিক সেবা যিনি নিশ্চিত করতে পারবেন, তাকেই তিনি ভোট দেবেন।
Advertisement
ফারুক বলেন, ‘২০২৪ সালে সারাদেশের মতো কুমিল্লায়ও আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের শপথ নিয়েছি। আমি চাই, শহরের নাগরিক সমস্যা সমাধানে যার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, তাকেই ভোট দেবো।’
অন্যদিকে ধর্মপুরের বাসিন্দা তৌফিক বলেন, ‘আমরা এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চাই, যিনি আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে পাশে থাকবেন। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি, এই নির্বাচিত ব্যক্তিরাই ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।’
গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দেবো। আগামী বাংলাদেশের সূচনা এই গণভোটের মধ্য দিয়েই হবে।
অন্য এক শিক্ষার্থী সজিব জানান, কুমিল্লার নামে কোনো দুর্নাম নতুন করে লাগাতে চাই না। এতদিনের মতো পেশিশক্তি ও ক্ষমতাধর নয়, বরং যিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন, এমন প্রার্থীকে বেছে নেবো আমরা।
Advertisement
এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ নিরপেক্ষ রয়েছে উল্লেখ করে তারা জানান, নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যেন ১৭ বছর পর মানুষ মনের ইচ্ছেমতো যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারে।
নগরীর প্রায় প্রতিটি চায়ের দোকানেই চলছে নির্বাচনকেন্দ্রিক আলাপচারিতা। কুমিল্লা নগরের উন্নয়নে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেবেন সাধারণ ভোটাররা।
এদিকে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেও কুমিল্লা বিভাগের ঘোষণা না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাই আগামীতে যে দল ক্ষমতায় এসে বিভাগ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেবে, সেদিকেই যাবে কুমিল্লার ভোটব্যাংক এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসন থেকে অন্তত ৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে ৭৬ জন দলীয় প্রতীক ও চারজন স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচনে লড়বেন।
ইসমাইল সিরাজী/এমএমএআর/এমএস