দেশজুড়ে

ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অভিযোগে এনসিপির ১৩ নেতার পদত্যাগ

ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন, জুলাইযোদ্ধাদের বঞ্চিত করাসহ নানা অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হবিগঞ্জ জেলা শাখার ১৩ নেতা পদত্যাগ করেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় দলের একাংশের অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

Advertisement

পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পলাশ মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল হক টিপু, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনির, যুগ্ম সদস্য সচিব সিরাজুল হক সজিব, শেখ রুবেল আহমেদ, সালমা হাসান, সঞ্জয় দাশ, সদস্য মো. হারুন মিয়া, মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, এএইচএম শফিউল আলম খান, মো. জাহিদ মিয়া ও সোফায়েল আহমেদ।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পলাশ মাহমুদ বলেন, ১৩ জনের পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। হতাশা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত বাংলাদেশে মধ্যপন্থার রাজনীতি করে এমন কোনো দল আছে বলে মনে হয় না। তবে এনসিপি যদি ভুল সংশোধন করে বা নতুন করে এমন কোনো মধ্যমপন্থার দল গড়ে ওঠে- যারা একাত্তর ও চব্বিশ উভয়কে ধারণ করবে তাহলে ওই দলে যুক্ত হওয়ার কথা ভাবা হবে। অন্যথায় একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই থাকতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসরদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। মধ্যপন্থার রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হলেও কেন্দ্রীয় কমিটি সে অবস্থান থেকে সরে এসে দুই মাসের মধ্যে দু’টি জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়। এ ছাড়া উপদেষ্টাসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়। প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েও অসন্তোষের কথা জানান তারা।

Advertisement

মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে জুলাই যোদ্ধারা কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলেও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।

তাদের অভিযোগ, কমিটিতে অনুগত শ্রেণি তৈরির লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমে জেলা কমিটি চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এনএইচআর/এমএস

Advertisement