শেরপুরের শ্রীবরদীতে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় মুসল্লিদের ঢল নামে। এসময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গ্রামে আরেকটি জানাজা শেষে বাদ এশা তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. মো. ছামিউল হক ফারুকী বলেন, ‘সরকারিভাবে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সেখানে নিয়ে নিরাপত্তা দিতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতা। সেখানে গিয়ে আমাদের ভাই মাওলানা রেজাউল করিম সন্ত্রাসীদের হামলায় শাহাদাত হয়েছেন। যারা মাওলানা রেজাউল করিমের ওপর প্রকাশ্যে হামলা করেছে তাদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা।’
Advertisement
আরও পড়ুন: শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাইকে যারা হামলা করে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’
এসময় জাতীয় নাগরিক কমিটি এনসিপির জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলার স্টেডিয়া এলাকায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষ হয়। এসময় আহত হন উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান মাওলানা রেজাউল করিম।
Advertisement
নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদরাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। এ ঘটনার পর তার পরিবারের সব দায়িত্ব নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
এদিকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম ও ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
জেলা পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় পুলিশের একটি এক্সপার্ট টিম কাজ করছে।’
মো. নাঈম ইসলাম/এসআর/জেআইএম