ইসলামে ইমানের মূল বিশ্বাস হিসেবে যে দুটি সাক্ষ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে দুটি সাক্ষ্যের মাধ্যমে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে তা ‘কালেমায়ে শাহাদাত’ নামে পরিচিত।
Advertisement
কালেমায়ে শাহাদাত হলো:
أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
উচ্চারণ: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।
Advertisement
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।
কোরআনে কালেমায়ে শাহাদাতকালেমায়ে শাহাদাতের দুটি সাক্ষ্য ইসলামের বিশ্বাসের মূল ভিত্তি। এ দুটি সাক্ষ্যই কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে।
আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ স্বয়ং সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। (সুরা আলে ইমরান: ১৮)
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, জেনে রাখো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। (সুরা মুহাম্মদ: ১৯)
Advertisement
মুহাম্মাদের (সা.) নবুয়্যত ও রিসালতের কথা ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (সুরা ফাতহ: ২৯)
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, মুহাম্মাদ তো একজন রাসুল ছাড়া আর কিছু নন। (সুরা আলে ইমরান: ১৪৪)
হাদিসে কালেমায়ে শাহাদাতওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, একদিন আমরা আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে বসেছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এলেন। ধবধবে সাদা তার পোশাক। চুল তার কুচকুচে কালো। তার মধ্যে সফর করে আসার কোন চিহ্ন ছিল না। আমাদের কেউ তাকে চিনতেও পারলো না।
তিনি এসে নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সামনে বসে পড়লেন। তারপর বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে কিছু বলুন, অর্থাৎ ইসলাম কি?
নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ইসলাম হচ্ছে- আপনি সাক্ষ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসুল, নামাজ আদায় করবেন, জাকাত আদায় করবেন, রমজান মাসের রোজা পালন করবেন এবং বায়তুল্লাহর হজ করবেন যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে।
আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন।…
ওমর (রা.) বলেন, আগন্তুক চলে গেলে আমি কিছুক্ষণ সেখানেই অবস্থান করলাম। পরে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, ওমার! প্রশ্নকারী আগন্তুককে চিনতে পেরেছেন? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, ইনি হচ্ছেন জিবরাইল (আ.), তিনি আপনাদেরকে আপনাদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছিলেন। (সহিহ মুসলিম: ৮)
ওএফএফ