নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বন্দরের গেটগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বেসরকারি বার্থ অপারেটরদের শ্রমিকরা কাজ করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
Advertisement
তিন নম্বর গেট এলাকায় বন্দর থেকে বের হওয়ার পথে কথা হয় বেসরকারি বার্থ অপারেটরের শ্রমিক আবুল ফজলের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত তিনদিন ধরে আমরা কোনো কাজ করতে পারিনি। আজ সকালে কাজে এসে ফিরে যাচ্ছি। বন্দরের শ্রমিকরা বুকিং নিচ্ছেন না। কোনো লোড আনলোড হচ্ছে না। তাই ফিরে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, বন্দরের নিয়মিত শ্রমিকরা কাজ না করলেও বেতন পান। আমরা বেসরকারি শ্রমিকরা কাজ না করলে বেতন পাই না। বন্দরের শ্রমিকদের আন্দোলনে আমরা বিপাকে পড়েছি।
৩ নং গেটে পান বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, প্রতিদিন ১৮০০ থেকে দুই হাজার টাকার বিক্রি হয়। বন্দরে শ্রমিকদের আন্দোলন চলায় গত দুইদিন আড়াইশো থেকে সাড়ে তিনশ টাকা বিক্রি করেছি। এখন সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারণ আমরা দিনে এনে দিনে খাই।
Advertisement
এর আগে, দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি অপারেশনে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, ১ ফেব্রুয়ারিও সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেন। ঘোষণা অনুযায়ী আজও (সোমবার) সকাল ৮টা থেকে কর্মবিরতি করছেন বন্দর শ্রমিকরা। এতে বন্দর অপারেশনে অচলাবস্থা তৈরি হয়। বন্ধ রয়েছে পণ্য খালাসও। বন্দর থেকে এ সময়ে পণ্য ছাড় করতে পারছেন না আমদানিকারকরা।
এদিকে, আন্দোলনের নামে বন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ৩ দিনে তিন দফায় আন্দোলনে জড়িত ১৬ কর্মচারীকে ঢাকাসহ চট্টগ্রামের বাইরে বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনায় বদলি করা হয়েছে।
এমডিআইএইচ/এএমএ/এমএস
Advertisement