অর্থনীতি

৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর থাকছে ৫ শতাংশই

পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ নয়, ৫ শতাংশ কাটা হবে, এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

Advertisement

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এনবিআরের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. রওশন আরা বেগম।

গত ২৮ জানুয়ারি ‘‘নীরবে’ বাড়ানো হলো সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর’ শিরোনামে জাগো নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে কীভাবে পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারীদের ওপর থেকে উৎস কর ৫ শতাংশের বদলে ১০ শতাংশ কাটা হয়, সেই চিত্র তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভের তথ্যসহ সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সরকারের বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে এমন সিদ্ধান্ত এলো।

Advertisement

আরও পড়ুননীরবে’ বাড়ানো হলো সঞ্চয়পত্রের উৎসে করসঞ্চয়পত্র কেনার শর্ত কী, কারা কিনতে পারেন?সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর: ‘সিস্টেমে ইনপুট’ দিতেই ৩ বছর পার!

এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করেন, তাহলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ৫ শতাংশ।

এছাড়া কোনো ব্যক্তির কোনো আয়বর্ষে যদি শুধু পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ওই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে উৎসে করের হার শূন্য শতাংশ থাকবে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩–এর ১০৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির কোনো আয়বর্ষে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মোট পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম করলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ১০ শতাংশ।

Advertisement

এনবিআর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আগের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর কাটা হবে না।

যোগাযোগ করা হলে সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. রওশন আরা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, এনবিআরের চিঠি আমরা পেয়েছি। এটা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

এমএএস/বিএ