মধু আহরণের মৌসুম শুরু হলেও চলতি বছর এখনো সুন্দরবনে যাননি অনেক মৌয়াল। বনদস্যু আতঙ্কে তাদের বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে লোকালয়ে। ফলে একদিকে তৈরি হয়েছে বনজীবীদের জীবিকার সংকট অপরদিকে বন বিভাগ হারাচ্ছে রাজস্ব।
Advertisement
মৌয়ালদের অভিযোগ, বনদস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া বনে প্রবেশ ও নিরাপদে মধু সংগ্রহ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একাধিক ডাকাত দলের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে অপহরণ, নির্যাতন ও প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকে। বনে প্রবেশ করতে নৌকা প্রতি বনদস্যুরা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হয়েছে ১ এপ্রিল। চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। মৌসুম শুরু হলেও এবার মৌয়ালরা তুলনামূলকভাবে কম পাস নিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে পূর্ব সুন্দরবনের বাগেরহাট এলাকায় ১ হাজার কুইন্টাল মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বনদস্যুদের আতঙ্কে মৌয়ালরা বনে না যাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৫ জন মৌয়াল জানান, বছরের এই সময়টিতে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গেলেও এ বছর বনদস্যুদের ভয়ে এখনও বনে যেতে পারেননি। বনদস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দিয়েই বনে ঢুকতে হয়। তা নাহলে অপহরণ ও নির্যাতনের ঝুঁকি থাকে। বনদস্যুদের সাথে কথাবার্তা চলছে, বনিবানা হলেই মধু সংগ্রহে যাবেন বলে জানান তারা।
Advertisement
শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (রেঞ্জার) মো. খলিলুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১১টি নৌকায় ৭৫ জন মৌয়াল সুন্দরবন গেছেন। তবে দস্যু আতঙ্কে এবার মৌয়ালদের আগ্রহ কমে গেছে। গত বছর শরণখোলা স্টেশন থেকে মৌসুমের প্রথমদিনেই মৌয়ালরা ২৯টি পাস নিয়েছিল, কিন্তু এ বছর দস্যুদের আতঙ্কে পুরো মৌসুম জুড়ে ২৯টি পাস নিবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশন থেকে এখন পর্যন্ত ৩১টি নৌকা পাস নিয়ে ২০১ জন মৌয়াল মধু সংগ্রহ করতে গেছেন। তবে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী চাঁদা দাবি করায় ৬টি নৌকা মধু সংগ্রহ না করেই ফিরে এসেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৪২টি নৌকা পাস নিয়ে ২৭৬ জন মৌয়াল মধু আহরণে গেছেন। গত বছর মৌসুমজুড়ে ২০০টি পাস নিয়ে ১৩০০ মৌয়াল মধু আহরণে গিয়েছিল। গত বছর মধু ৬৫০ কুইন্টাল ও মোম ২০০ কুইন্টাল উৎপাদন হলেও এ বছর মৌয়ালদের অনাগ্রহে এই পরিমাণ উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌয়ালদের এই অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মৌয়ালদের নিরাপত্তায় টহল জোরদার করা হয়েছে। মৌয়ালরা দস্যুদের কবলে পড়লে তাদের উদ্ধার করতে বনরক্ষী তৎপর রয়েছে।
Advertisement
নাহিদ ফরাজী/এমএন/এএসএম