জাতীয়

ভয় দেখিয়ে গান থামানো যাবে না: ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার

‘যে সঙ্গীত বাঙালির আনন্দ, বেদনা, মিলন ও বিরহ সংকটের সঙ্গী; যে সঙ্গীত মুক্তিযুদ্ধ থেকে সকল অধিকার অর্জনে আমাদের অবলম্বন; যে সঙ্গীত জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে; কোনো অপশক্তি শান্তিপ্রিয় মানুষকে এই সংগীত থেকে ভয় দেখিয়ে নিরস্ত্র করতে চায়। আবহমান বাংলা গানের সংস্কৃতির যে বৈচিত্র্য তা থেকে শেকড় বিচ্ছিন্ন করতে চায়। ভয় দেখিয়ে গান থামানো যাবে না।’

Advertisement

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানী রমনার বটমূলে ‘বর্ষবরণ-১৪৩৩’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী।

সারওয়ার আলী বলেন, বিগত প্রায় ছয় দশক ধরে এই দিনটিকে আমরা সকল গ্লানি ও জরা মুছে ফেলে ফিরে দেখি বিগত বছরটিকে। গত বছরও এই রমনার বটমূলে নির্বিঘ্নে আয়োজিত হয়েছিল নববর্ষের আয়োজন। ১৬ ডিসেম্বর উন্মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত হলো বিজয় দিবসের আয়োজন। তার দুই দিন পর গভীর রাতে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে ভাঙা হারমোনিয়াম, তবলা, তানপুরা আর নালন্দায় শিশুদের পুস্তকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন রূপে দুঃসহ স্মৃতি। সেদিন রাতে শীর্ষ দুই সংবাদপত্রের ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হলো। পরের দিন আক্রান্ত হলো উদীচী। কয়েকদিন আগে অপদস্থ হয়েছেন কিছু বাউল শিল্পীরা। এই ঘটনাগুলো আমাদের স্মরণে জেগে ওঠায় ২০০১ সালে এই রমনার বটমূলে ভয়াবহ অঘটন।

ছায়ানটের সভাপতি বলেন, সমাজে এরই মধ্যে বেড়েছে সহিষ্ণুতা। বেড়েছে মতপ্রকাশে দলবদ্ধ নিগ্রহের আশঙ্কা। মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহে আজ পারস্য সভ্যতাও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে কামনা করি বিশ্বশান্তি।

Advertisement

তিনি বলেন, আমরা সমাজের কাছে অভয় বাণী শুনতে চাই। আমরা যেন নির্ভয়ে গান গাইতে পারি। সংস্কৃতির সকল প্রকাশ যেন নির্বিঘ্ন হয়। বাঙালি যেন শঙ্কামুক্ত জীবনযাপন করতে পারে। আমরা এমন এক মাতৃভূমির স্বপ্ন দেখি-চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির, জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর। শুভ নববর্ষ।

কেআর/এমআরএম