আন্তর্জাতিক

নৌ-অবরোধ বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান সৌদি আরবের

হরমুজ প্রণালি ঘিরে অবরোধ না করার এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

Advertisement

ফারহান আল-সৌদ পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে সৌদি আরব যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকাটির তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ আশঙ্কা করছে যে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াবে। এতে আনসার আল্লাহ (ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী) প্রতিশোধ হিসেবে বাব-আল মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এই প্রণালিটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সৌদি তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।

তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) এই বিষয়ে টেলিফোন আলাপ করেছেন ফারহান আল সৌদ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। এই টেলিফোন আলাপে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান ঘটবে এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসবে।

Advertisement

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা দেশটির ভূখণ্ড বা জাহাজে হামলা করবে না। তবে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা মনে করছেন পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল এবং হুথিরা ভবিষ্যতে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য শুল্ক আরোপ করতে পারে।

এদিকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো চায় না যে হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাক। তবে তারা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংকট সামরিক পদক্ষেপের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানাচ্ছে।

গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন জেডি ভ্যান্স। তবে বিভিন্ন মতপার্থক্যের কারণে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে দুই পক্ষই জানায়।

এরপর ১৩ এপ্রিল মার্কিন সেন্টকম ঘোষণা দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরু করবে, যার মাধ্যমে দেশটির বন্দরগামী ও বন্দর ত্যাগকারী সব জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

Advertisement

কেএম