বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জেলা শাখার আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। সেই নিষেজ্ঞাধা উপেক্ষা করে উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করেছে জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
Advertisement
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ শহরের হোসেন বখত চত্বরে প্রতিবাদী গানে গানে বর্ষবরণ উদযাপন করেন জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সকালে প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশন ও দুপুরে জাহাঙ্গীর আলমের রচনায় ও সাইদুর রহমান আসাদের সঞ্চালনায় পথ নাটক বাঁধ মঞ্চস্থ করা হয়। শেষে শহরে গানের মিছিল বের করা হয়।
তবে সংগঠনটির দাবি, জেলা প্রশাসন তাদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে। যা সুনামগঞ্জের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। এর আগে গতকাল রবিবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায় ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতির জন্য আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গানের তালিকা ও অন্যান্য পরিবেশনার বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়।
উদীচীর নেতৃবৃন্দ এই শর্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে বিকল্প স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, শেষ মুহূর্তে জেলা প্রশাসন জানিয়ে দেয় যে সুনামগঞ্জ শহরের কোথাও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।
Advertisement
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাধীন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিপন্থি ও এটি মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল। তারা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।
জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ উদীচী সবসময় বঞ্চিত মানুষের, গণমানুষের কথা বলে। জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় আমরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমাদের অনুষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত জায়গা সুরমা নদীর তীরের রিভারভিউর বটতলায় জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আমরা উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণ ও হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের অনিয়ম-দুর্নীতির নিয়ে প্রতিবাদী নাটক বাঁধ মঞ্চস্থ করেছি।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০০৮ সাল থেকে সুনামগঞ্জে উদীচীর অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। প্রশাসনের অনুমতির জন্য আবেদন করার পর উদীচীর কাছে গানের তালিকা ও নাটকের স্ক্রিপ্ট চাওয়া হয়। কিন্তু উদীচী কারো কাছে এসব দিতে দায়বদ্ধ নয়। হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের অনিয়ম-দুর্নীতি ও কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে উদীচী কথা বলায় জেলা প্রশাসন কোথাও অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি। উদীচী গণমানুষের একটি সংগঠন তাই বৈশাখের তপ্ত আবহাওয়া ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা সিসিপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, জেলা প্রশাসনের কথামতো অনুষ্ঠান করতে হবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উদীচীর অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে জেলা প্রশাসন মোটেও ভালো কাজ করেননি। বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনার শামিল।
Advertisement
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, যেহেতু সরকারিভাবে সকল সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। উদীচীকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে আলাদা অনুমোদন দেওয়া যায় কীভাবে?
লিপসন আহমেদ/এমএন/এমএস