মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
Advertisement
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমেরিকা আবার ইরানের সঙ্গে রিলেটেড জাহাজগুলো ব্লকে দিচ্ছে। সো এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় থাকে, পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন খুব লম্বা সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া আসলে কঠিন। আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করবো না, অলরেডি বলেছি। যদি এটা কন্টিনিউ করে দামের কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দাম আসলে বাড়বে কি না নিশ্চিত নয়, তবে আপনারা খেয়াল করছেন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপের দিকে যাওয়ারও আশঙ্কা আছে। আবার আমরা দেখছি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন যে পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে।
Advertisement
তিনি বলেন, অবস্থা সেটা হচ্ছে স্ট্রেটস অব আমেরিকা আবার ইরানের সঙ্গে রিলেটেড জাহাজগুলো ব্লকে দিচ্ছে। সো এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় থাকে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন আমরা খুব লম্বা সময় ভর্তিকে দিয়ে যাওয়া আসলে কঠিন। আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করবো না, অলরেডি বলেছি। যদি এটা কন্টিনিউ করে দামের কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি প্রয়োজন হতে পারে। মানে এটা হবেই, এরকম কথা না।
তিনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তো খুব প্রেডিক্টেবল না। যদি ওনাদের মধ্যে একটা আলোচনা হয়ে যায়, যদি একটা চুক্তি মোটামুটি হয়ে যায় তাহলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি তথ্য আমাদের সামনে এসেছে। আমরা জানি এটা মূলত ক্রুড রিফাইন করে। আমরা এখান থেকে মূলত পেট্রোল এবং অকটেন আনি।
তিনি বলেন, এক লাখ টনের একটা জাহাজ শিপমেন্ট সৌদি আরব থেকে হচ্ছিল, যেটা আসলে আসতে পারেনি। আরেকটা আসবে, সেটা মে মাসের শুরুতে এসে পৌঁছাবে, ওটা দিয়ে অলরেডি চুক্তি হয়ে গেছে। এছাড়া সরকারের চেষ্টা করছে।
Advertisement
‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে সংকট হবে কি না? কারণ আমরা আমাদের পেট্রোল এবং অকটেন প্রধানত পাই আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে। ইস্টার্ন রিফাইনারি যে ক্রাইসিসটা আছে আপনারাই পত্রিকায় রিপোর্ট করেছেন যে আর এতদিনের মতো মজুদ আছে। আর এতদিন রিফাইনারি চালানো যাবে। সুতরাং সরকার যে কাজটা করেছে সরকার রিফাইন পেট্রোল এবং অকটেন ইমপোর্ট যথেষ্টই করেছে। এ কারণে যে সংকটটা, আবারও বলছি একদম কোনো সমস্যা হবে না তা না। মানে সাপ্লাই তো খানিকটা সংকট আছে আসলে। এটা ফ্যাক্ট। কিন্তু এই যে একটা পূর্বাভাস ছিল আমার ক্রুড শেষ হয়ে যাবে, ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্য রিফাইনড পেট্রোল এবং অকটেনে মজুত সরকার তৈরি করেছে।’- বলেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
আরেকর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একই বাইক বারবার যাচ্ছে, তেল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপচে পড়ছে। এরকম নানান ঘটনা তো আসলে আছে। আমি আবারও সবার প্রতি আহ্বান জানাবো, আমাদের সংকট আছে, কিন্তু আমরা যদি এ ধরনের প্যানিক বায়িং করতে থাকি তাহলে এটা সংকট হবে।
এমএএস/ইএ