দেশজুড়ে

মামলায় আসামি শিবির-জামায়াত কর্মী, ৪ দিনেও নেই গ্রেফতার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীর (৬৫) হত্যার চারদিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Advertisement

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে সবাই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে।

এর আগে ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৮০ থেকে ২০০ অজ্ঞাতনামা আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন শামীমের ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান।

মামলায় জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহম্মেদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে।

Advertisement

মামলায় এজাহারনামীয় অন্য তিন আসামি হলেন স্থানীয় জামায়াতকর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৫) ও আবেদের ঘাট এলাকার একটি মাদরাসার শিক্ষক সাফি।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের জড়ানোর প্রতিবাদে বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের জড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মব হামলায় দলের দুজন নেতাকর্মীর নাম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন বলেন, মামলায় অনেকের নাম আসতে পারে। কিন্তু আমাদের দলের কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয়। অভিযোগ আমরা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো।

Advertisement

হত্যার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ বলেন, ‘যিনি মারা গেছেন, তিনি আমার বংশের বড় ভাই। তার ভাইয়ের নির্দেশেই আমি লাশ আনতে গিয়েছিলাম। ঘটনার দিন পুলিশের সঙ্গেও আমার একাধিকবার কথা হয়েছে। এরপরও আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অথচ ওই দিন সেখানে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের কারও নাম মামলার এজাহারে নেই।’

প্রসঙ্গত, ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের অভিযোগে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে নিজ আস্তানায় কয়েকশ মানুষের সংঘবদ্ধ আক্রমণে নিহত হন পীর আব্দুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীর।

এ ঘটনায় শামীমের তিন অনুসারীও আহত হন। ওই পীরের আস্তানায় দফায় দফায় হামলা ভাঙচুর এবং আগুন দেওয়া হয়। মূল্যবান সম্পদ লুটেরও অভিযোগ ওঠে।

আল-মামুন সাগর/এনএইচআর/জেআইএম