বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বদলে যাচ্ছে। এখন থেকে আর শিক্ষক নিবন্ধন সনদ অর্জন করতে চাকরিপ্রার্থীদের পৃথক পরীক্ষা দিতে হবে না। সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তাতে আবেদন করে বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করলেই তিনি নিয়োগযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
Advertisement
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, নবম এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে ইতিমধ্যে শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদ পাওয়া গেছে। এখন এসব শূন্যপদ যাচাই-বাছাই শেষে বিজ্ঞপ্তি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা পাঠানো হবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য। অনুমোদন পেলেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের পর ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এরপর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। দুই পরীক্ষায় পাস করতে প্রার্থীকে পৃথকভাবে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। নতুন এ পদ্ধতিতে যেসব প্রার্থী নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত হবেন, শুধু তাদের এনটিআরসিএ থেকে শিক্ষক পদে নিয়োগের একটি সনদ দেওয়া হবে।
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এবার প্রথমবারের মতো সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আমরা শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করেছি। এখন তা যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
Advertisement
আরও পড়ুন:
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনে বড় পরিবর্তন আনছে এনটিআরসিএ
কবে নাগাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে এমন প্রশ্নে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান বলেন, সুনির্দিষ্ট করে দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়। তবে আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদের বিপরীতে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে প্রার্থীদের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিবন্ধন সনদ নিতে হয়। পরীক্ষা নিয়ে এ সনদ দেয় এনটিআরসিএ। এরপর নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নিয়ে শূন্যপদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে।
Advertisement
বর্তমানে দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪ হাজার ১২৯। এসব প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক ও দুই লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এএএইচ/এসএনআর