আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল-ইউরোপ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের চেষ্টা আটকে দিলো জার্মানি ও ইতালি

ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত আটকে দিয়েছে জার্মানি ও ইতালি। ফলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইইউর ভেতরের বিভাজন আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Advertisement

গত মঙ্গলবার (২১ আপ্রিল) লুক্সেমবার্গে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে স্পেন, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জোর দাবি তোলে। তারা গাজা ও পশ্চিম তীরে সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ১৯৯৫ সালের ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানায়।

তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জার্মানি ও ইতালি। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল এ উদ্যোগকে ‘অনুপযুক্ত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করে বরং সমালোচনামূলক ও গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন>>ইউরোপে ফুরিয়ে যাচ্ছে জেট ফুয়েল, মজুত আছে মাত্র ছয় সপ্তাহেরইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ বন্ধুত্বে ফাটল, ন্যাটোয় ভাঙনের সুরযুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কী?

Advertisement

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও একই অবস্থান নেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং প্রস্তাবটি কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ১১ মে পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা হতে পারে।

প্রস্তাবের সমর্থক দেশগুলো বলছে, গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে চলমান সহিংসতার মধ্যে ইইউ আর ‘নিরপেক্ষ অবস্থানে’ থাকতে পারে না। তাদের মতে, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এবং এটি ইইউ-ইসরায়েল চুক্তির শর্তেরও পরিপন্থি।

এর আগে, ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাসের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে তিন দেশ অভিযোগ করে, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘পদ্ধতিগত নিপীড়ন’ চালাচ্ছে।

তারা আরও উল্লেখ করে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করছে না। পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বাড়ছে এবং বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় দায়মুক্তির মধ্যেই হামলা চালাচ্ছে।

Advertisement

অন্যদিকে, ইইউর ভেতরে ইসরায়েল নীতিতে বিভক্তি থাকায় এমন কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর আগে ২০২৪ সালে চুক্তি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।

তবে আয়ারল্যান্ড এরই মধ্যে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে ‘অকুপায়েড টেরিটরি বিল’ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। একইভাবে স্পেন ও স্লোভেনিয়াও বসতি এলাকা থেকে আমদানি সীমিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, যা ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়।

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/