জাতীয়

জনগণের ক্ষমতায়ন ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে সরকার: মাহদী আমিন

জনগণের ক্ষমতায়ন ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা কারিকুলামে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে ‘ডিএনএ’র নকশার উন্মোচন থেকে বাংলাদেশের বায়োইকোনোমির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

মাহদী আমিন বলেন, বায়োটেকের ক্ষেত্রে আমাদের কয়েকটা প্র্যাক্টিক্যাল ইমপ্লিকেশনস আছে, যেগুলো গভর্নমেন্টের গোলস এবং জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি এলাইনমেন্ট আছে। আমাদের একটা বড় লক্ষ্য হচ্ছে ভ্যাক্সিনেশন নিয়ে কাজ করা—হিউম্যান এবং লাইভস্টকের ক্ষেত্রে। বায়োটেকের সঙ্গে এটার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমরা কিভাবে আমাদের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বনির্ভরতা তৈরি করতে পারি, এটা এখন একদম কারেন্ট ইস্যু।

তিনি বলেন, ক্যানসারসহ অন্যান্য লাইফ-সংশ্লিষ্ট রিসার্চে আমরা আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারি কিনা এবং সেজন্য গভর্নমেন্ট কি ধরনের পলিসি দিতে পারে—এগুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। আমাদের গভর্নমেন্টের একটি বড় লক্ষ্য হচ্ছে ফুড সিকিউরিটি নিশ্চিত করা। বিশেষভাবে আমাদের ফ্যামিলি কার্ড রয়েছে—যার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়া। কিন্তু একটা পর্যায়ে আমরা এখানে প্রোডাক্ট ইন্ট্রোডিউস করতে চাই, যদি আমরা কৃষিনির্ভর স্বনির্ভরতা তৈরি করতে পারি।

Advertisement

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছে।

সরকারের কিছু ভিশন আছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সেই ভিশনগুলোকে কিভাবে ম্যাটেরিয়ালাইজ করবো, কিভাবে প্র্যাক্টিক্যাল কানেক্টিভিটি তৈরি করবো—তার জন্য সাবজেক্ট এক্সপার্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্ট রয়েছে যেখানে আমাদের প্রোডাক্টিভিটি কম। আমরা প্রোডাক্টিভিটি কিভাবে বাড়াবো—হতে পারে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে, ডাইভার্সিফিকেশনের মাধ্যমে। কিন্তু ওভারঅল যদি ল্যান্ডের সঙ্গে প্রোডাকশনের রেশিও দেখি, বাংলাদেশে আমরা যথেষ্ট ইন-ইফিশিয়েন্ট। তাহলে আমরা এফিশিয়েন্সি কিভাবে বাড়াবো—সেখানে মডার্ন টেকনোলজিক্যাল ইন্টারভেনশন দরকার।

তিনি বলেন, আমাদের গভর্নমেন্টের একটি বড় প্রতিশ্রুতি আছে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন মিডডে মিল। বাংলাদেশে প্রাইমারি স্কুলের প্রায় ২ কোটি স্টুডেন্ট রয়েছে, তাদের কাছে পর্যায়ক্রমে টিফিন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে এই মিলগুলো পেরিশেবল হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে—কখনো বাটার বন, কখনো কলা। এক্ষেত্রে আমাদের একটি আরএনডি দরকার, যাতে আমরা নন-পেরিশেবল প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারি—যেখানে নিউট্রিশনাল ভ্যালু থাকবে এবং কস্টও সেভ হবে এবং বাচ্চারা সঠিক মিডটাইম খাবার পাবে।

মাহদী আমিন বলেন, এগুলো একদম প্র্যাক্টিক্যাল, রিলেভেন্ট এবং এক্সিস্টিং প্রবলেম, কিন্তু গত ১৬-১৮ বছরে এগুলোর সলিউশন তেমনভাবে হয়নি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এনভায়রনমেন্টের ক্ষেত্রে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স তৈরি করা। আমরা চাই ওয়েস্ট-বেসড এনার্জিকে প্রমোট করতে—সে ক্ষেত্রে আমাদের অপশনগুলো কী, তা নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

Advertisement

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশে এবং বিদেশে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। আমাদের যে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড রয়েছে, সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। যদি আমরা আমাদের ইয়াং জেনারেশনকে সঠিক স্কিলসেট দিতে পারি—টেকনিক্যাল ক্যাপাসিটি ডেভেলপ করতে পারি—তাহলে আমরা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি কোলাবোরেশন বাড়াতে পারবো।

দেশে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ব্রেন ড্রেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাকে কিভাবে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তর করা যায়—যেখানে বিদেশে থাকা আমাদের ট্যালেন্টরা দেশের সঙ্গে যুক্ত থাকবে—সেটা ভাবতে হবে। অনেক দেশে সফল মডেল আছে, যেখানে জয়েন্ট রিসার্চ, ল্যাব কানেক্টিভিটি, গ্র্যান্ট সাপোর্টের মাধ্যমে কাজ হয়।

তিনি বলেন, আমরা চাই বিদেশে থাকা আমাদের একাডেমিক ও প্র্যাক্টিশনারদের বাংলাদেশে ইনভলভ করতে—সামার স্কুল, শর্ট কোর্স, জয়েন্ট রিসার্চ—এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে। এতে করে আমাদের রিসার্চ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী হবে।

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের রিসার্চের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রবলেম সলভিং। ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ অবশ্যই থাকবে, কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন-বেসড রিসার্চ আরও গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে।

ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি কোলাবোরেশনের ক্ষেত্রে আমাদের ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই লিংকেজ দুর্বল। অথচ হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার পার্ক, ইকোনমিক জোন, ইপিজেড—সবই আছে। কিন্তু ইউনিভার্সিটি ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সিনার্জি নেই। এই গ্যাপটি পূরণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মূখপাত্র বলেন, আমরা এরই মধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি—ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের অব্যবহৃত জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে ইউনিভার্সিটিকে ইন্টিগ্রেট করা, ওয়ার্কস্পেস দেওয়া, ইনকিউবেশন ও কমার্শিয়ালাইজেশনের সুযোগ তৈরি করা। স্টুডেন্টদের আইডিয়া থেকে স্টার্টআপ তৈরি করার সুযোগ দিতে হবে।

গভর্নমেন্ট যদি সিট ফান্ডিং, গ্র্যান্ট এবং পলিসি সাপোর্ট দেয়, তাহলে তরুণদের আইডিয়া বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। আমাদের সামনে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য—এম্পাওয়ারমেন্ট অব পিপল। জনগণকে স্বনির্ভর করা, সমৃদ্ধ করা। বিশেষ করে ইউথ এবং উইমেন—এই দুই ক্লাসকে এগিয়ে নেওয়া।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ওয়াইডস্প্রেড কনসালটেশনে যাব, এক্সপার্টদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিসকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করবো। আমাদের সামনে অনেক সমস্যা আছে—এটাই আমাদের সুযোগ। যদি পলিটিক্যাল উইল থাকে এবং প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও দিকনির্দেশনা থাকে, তাহলে আমরা সাস্টেইনেবল পরিবর্তন আনতে পারবো—যার মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব হবে।

কেএইচ/এমএমকে