মৌলভীবাজারের শহর, গ্রাম-গঞ্জ অথবা হাওর এলাকায় বৈশাখের মাঝামাঝি চোখে পড়বে রক্তমাখা কৃষ্ণচূড়া আর জারুল ফুল। এসব গাছের ফুল বাতাসে দোলার পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। বিকেলের নরম হাওয়ায় লাল পাপড়িগুলো বাতাসে দুলছে। কৃষ্ণচূড়ার অপর নাম গুলমোহর। কৃষ্ণচূড়াকে চেনেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।
Advertisement
কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। তবে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে এটি জন্মে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কৃষ্ণচূড়া পাওয়া যায়। বাংলাদেশ এ ফুল এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ফোটে।
জানা যায়, গ্রীষ্মের এ সময়ে প্রকৃতিতে হরেক রকমের ফুল ফুটলেও মানুষের নজর কাড়ছে কৃষ্ণচূড়া। বিশেষ করে নদী ও হাওর অঞ্চলের ছোট-বড় সড়ক ও পুকুরে পাশে কৃষ্ণচূড়া ফুলের আধিপত্য দেখা যায়। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কৃষ্ণচূড়া ও জারুল গাছ দেখা যায়। এ গাছে লাল ও বেগুনি রঙের ফুল ফোটে।
আরও পড়ুনফরিদপুরে ছাদ বাগানে ‘মরুর গোলাপ’ চাষে সফল তরুণতবে আগের চেয়ে কৃষ্ণচূড়া গাছের সংখ্যা কমে এসেছে। যেখানে পানি জমে থাকে; সেখানেই কৃষ্ণচূড়া গাছের জন্ম হয়। ১৫-২০ মিটার গাছ একটু বড় হলেই গ্রীষ্মের শুরুতে ফুল ধরতে শুরু করে। কয়েক বছর ধরে অনেকেই শখের বশে বাড়ির আঙিনা বা সড়কের পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছের বাগান করছেন।
Advertisement
মৌলভীবাজার শহর, শ্রীমঙ্গল, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় দেখা যায়, সড়ক অথবা গ্রামীণ জনপদের মেঠোপথে, হাওর বা নদীর পারে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শোভা পাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া ফুল। কৃষ্ণচূড়া গাছ কখনো একা দেখা গেলেও কোথাও সঙ্গী যেমন- জারুল, সোনালু ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রকৃতিপ্রেমী রাকিব খান বলেন, ‘বৈশাখে কৃষ্ণচূড়া, জারুল বা সোনালু ফুল ফোটার পাশাপাশি অনেক রকমের ফুল ফোটে। কিছু ফুল আছে নাম না জানা। প্রকৃতিতে এসব ফুল মুগ্ধতা ছড়ায় কিছুদিন। সবাই যদি গাছ না কেটে একটা করে গাছ রোপণ করতেন। তাহলে প্রকৃতি আরও সুন্দর রূপ দেখাতো।’
আরও পড়ুনচিনির বিকল্প ‘স্টিভিয়া’, লাভজনক ফসলের নতুন দিগন্তকমলগঞ্জের মাইজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আহমদ বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে বিশাল আকারের তিনটা কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। অনেক পুরাতন গাছগুলো বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক জুড়ে আছে। এখন ফুল ফুটেছে। ওপরে তাকালে মনে হয় পুরো আসমান লাল হয়ে আছে। নিচে তাকালে মনে হয় কেউ লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছে।’
এম ইসলাম/এসইউ
Advertisement