বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে অনশনরত কর্মীরা পুনর্বহাল ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
Advertisement
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অনশনকারীদের একজন মো. ইরফানুল হক।
তিনি বলেন, তারা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাবেক কর্মী এবং পাঁচ দিন ধরে অনশন করছেন। অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তাকেসহ অর্ধশতাধিক কর্মীকে অমানবিক ও অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করেছে। আর্থিক ও নীতিগত কিছু অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইরফানুল হক বলেন, আমি এমন এক সময়ে কথা বলছি, যখন আমার তিন বছরের কন্যা সন্তান খাবারের জন্য কান্না করছে। কিন্তু তার মা তাকে খাবার দিতে পারছে না। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমি জীবিকার পথ হারিয়েছি।
Advertisement
তিনি দাবি করেন, প্রান্তিক পর্যায়ে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তোলাই ছিল আমাদের ‘অপরাধ’। সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই অর্থ ব্যবহারে বাস্তব কার্যক্রম ও উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কর্মীদের প্রাপ্য বেতন ও আর্থিক সুবিধা নিয়েও দীর্ঘদিন জটিলতা ছিল। এসব বিষয় তুলে ধরতেই চাকরি হারাতে হয়েছে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চাকরিচ্যুত কর্মীদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া অথবা তাদের জন্য ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অনশনকারীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহাল বা ন্যায্য পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
এফএআর/এমআরএম
Advertisement