জাতীয়

ডিসি সম্মেলনে থাকছে ৩৪ অধিবেশন, কোন দিন কী নিয়ে আলোচনা 

জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) এবারের বার্ষিক সম্মেলন আগামী ৩ থেকে ৬ মে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে মোট ৩৪টি কার্য অধিবেশন থাকবে।

Advertisement

সম্মেলন ঘিরে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আয়োজনের সার্বিক বিষয় তুলে ধরতে শনিবার (২ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সংবাদ সম্মেলন হবে। এসময় সম্মেলনের লক্ষ্য, আলোচ্যসূচি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এরপর আধা ঘণ্টা বিরতি শেষে ডিসিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা করবেন। তারপর হবে ফটোসেশন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত থেকে ডিসিদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। উদ্বোধনী পর্বে দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক অবস্থা, জনসেবা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন ও মাঠ প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হবে।

Advertisement

প্রথম দিনের সূচি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক হবে। এসব বৈঠকে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে নীতিগত নির্দেশনা, চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।

দিনের বিভিন্ন অধিবেশনে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি, মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনভোগান্তি কমাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। ডিসিরা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরবেন, যার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক করণীয় নির্ধারণের চেষ্টা থাকবে।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আইন ও বিচার বিভাগ নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে ডিসিরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং রাষ্ট্রপতি সঙ্গে রাতের খাবার খাবেন।

Advertisement

দ্বিতীয় দিনের সূচি

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে পৃথক পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হবে। 

আরও আলোচনা হবে কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিয়ে। 

এদিন বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে ডিসিরা তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন এবং বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা জানাবেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে।

তৃতীয় দিনের সূচি

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনীর বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

এছাড়া, এদিন ডিসিরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তারা সুপ্রিম কোর্ট থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ফিরবেন এবং মাগরিবের নামাজের বিরতির শেষে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেবেন। 

সম্মেলনের শেষ দিন

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিষয়ে আলোচনা হবে।

এদিন ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নির্ধারিত অধিবেশন শেষে ডিসিরা সন্ধ্যার আগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন। সেখানে মাগরিবের নামাজ শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাতের খাবার খাবেন ডিসিরা।

বরাবরের মতো এবারও সম্মেলন থেকে বিভিন্ন সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

সম্মেলনের প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাবাহিক সেশন চলবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবরা এতে অংশ নেবেন এবং সরাসরি ডিসিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এতে মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের পথ বের করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এমএএস/একিউএফ