ফোর্বসের মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন এখন কাঁপছে একজন বাংলাদেশির সাফল্যে। সান ফ্রান্সিসকোর গলি থেকে সিলিকন ভ্যালির অলিগলিতে এখন একটাই নাম ‘ক্যাজুয়াল ডায়নামিকস ল্যাব’ বা সিডিএল। যারা ওপেনএআইয়ের মতো জায়ান্টদের কোডিং পরীক্ষায় ধরাশায়ী করে দিচ্ছে।
Advertisement
পৃথিবী যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ে নতুন রূপ দেখছে ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যাচ্ছে ঢাকা শহরের একটি অফিসে। মাঝরাতে যখন পুরো শহর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন একদল স্বপ্নবাজ বুয়েটিয়ান প্রকৌশলী তাদের ল্যাপটপে কোড করছেন ৭ হাজার মাইল দূরের সার্ভারের জন্য। তাদের এই অসাধ্য সাধনের কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘সিডিএল’ যার নেতৃত্বে রয়েছেন যশোরের সন্তান হাসিবুল হক।
কিন্তু কেন ফোর্বসের মতো পত্রিকা এই প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে?কারণ, হাসিবুল হক এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করেছেন যা এআইয়ের চিরচেনা সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। সাধারণ চ্যাটবট বা এআই মডেলগুলো একটা চ্যাট বা সেশন শেষে সবকিছু ভুলে যায়। কিন্তু হাসিবুলের তৈরি ‘সিয়েলারা’ এমন এক ডিজিটাল ব্রেইন যা পুরো কোম্পানির সিস্টেমকে তার মেমোরিতে ধরে রাখতে পারে।
আরও পড়ুন এআই সামারিতে ভুল তথ্য, দায় নিতে হবে গুগলেরসহজ কথায়, সিয়েলারা শুধু একটি টুল নয়, এটি একটি ভার্চুয়াল এক্সপার্ট। যেখানে চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য মডেল ১০ লাখ টোকেন প্রসেস করতে হিমশিম খায়, সেখানে সিডিএলের সিস্টেম ১২ কোটি ৫০ লাখ টোকেন নিয়ে কাজ করতে সক্ষম। অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠানের পুরো কোডবেস এবং ডকুমেন্টেশন এই এআইয়ের কাছে সংরক্ষিত থাকে এবং সে অনবরত নতুন কিছু শিখতে থাকে।
Advertisement
কারণ, তাদের কোডিং পারফরম্যান্স ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিষ্ঠানকেও হার মানিয়েছে। হ্যাকারনুনের মতো প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলো নিশ্চিত করেছে যে, কোড জেনারেশনের কঠিন পরীক্ষায় ক্লড বা জেমিনাইর মতো দানবীয় মডেলগুলো সিডিএলের সামনে দুর্বল প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি গুগলের জেমিনাই যেখানে ২৬ শতাংশ স্কোর করতে পারে সেখানে সিডিএলের নিজস্ব সিস্টেম ‘রিজোনারা’ স্কোর করেছে ৭৩ শতাংশ!
এই সাফল্যের কারিগর হাসিবুল হকের পথচলাও কম রোমাঞ্চকর নয়। যশোর জিলা স্কুল থেকে বুয়েট, এরপর মাইক্রোসফট এবং উবারে বিশাল সব অভিজ্ঞতা ঝুড়িতে ভরে তিনি এখন নিজের প্ল্যাটফর্মে মনোনিবেশ করেছেন। ঢাকা অফিসে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান আজমত ইকবালসহ ২০ জনের এক দুর্দান্ত টিম রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে এই প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে। তাদের গবেষণা দলে যুক্ত আছেন এনএসএফ পুরস্কারজয়ী ড. লিয়াং ঝাও এবং মাইক্রোসফট রিসার্চের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. জুচাও ঝাংয়ের মতো বাঘা বাঘা গবেষক।
শুধু গবেষণায় নয়, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও সিডিএল এক বিস্ময়৮০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করা এই স্টার্টআপটি এআই পরিচালনার খরচ ৯৮ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। যে কাজ আগে ১০০ ডলারে করা হতো তা এখন মাত্র ২ ডলারে সম্পন্ন হচ্ছে। বিশ্বের ৫০০টি শীর্ষ কোম্পানির মধ্যে ৪০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান এখন তাদের গ্রাহক।
হাসিবুল হকের এই ‘দেশপ্রেম’ কেবল কথার কথা নয়; বরং তিনি ঢাকার প্রকৌশলীদের সরাসরি এআই জগতের সর্বোচ্চ শিখরে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রযুক্তি বিশ্বে এটি একটি নীরব বিপ্লব, যেখানে যশোর থেকে উঠে আসা এক মেধাবী সিলিকন ভ্যালির আকাশ ছোঁয়ার সাহস দেখাচ্ছেন। এআইয়ের দুনিয়ায় নতুন এই অধ্যায় কেবল শুরু আর এর প্রতিটি পাতায় এখন লেখা থাকছে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের নাম।
Advertisement
কেএসকে