রাষ্ট্রপক্ষের অমনোযোগিতা

থমকে আছে শোক দিবসে হামলার পরিকল্পনাকারীদের বিচার

জাহাঙ্গীর আলম
জাহাঙ্গীর আলম জাহাঙ্গীর আলম , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৫ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২৩
ফাইল ছবি

ছয় বছর আগে জাতীয় শোক দিবসের আগের রাতে ঢাকার পান্থপথের ওলিও হোটেলে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখানে আশ্রয় নিয়ে ১৫ আগস্ট হামলার পরিকল্পনা করছিল জঙ্গিরা। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। অভিযোগ গঠনের আড়াই বছরে ৬৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ, রাষ্ট্রপক্ষের অমনোযোগিতার জন্য মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোচ্ছে না। রাষ্ট্রপক্ষ বলছেন, সাক্ষীদের আদালতে হাজির করে দ্রুত মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হবে।

পান্থপথের ওই হোটেলে আশ্রয় নিয়ে জঙ্গিরা ২০১৭ সালের ১৫ আগস্টের কর্মসূচিতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তবে ১৪ আগস্ট রাত থেকে ওলিও হোটেল ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। পরে সোয়াট নামে অভিযানে। এক পর্যায়ে সকালে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এক জঙ্গি আত্মঘাতী হন। ঘটনার পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

২৭ মাস মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে বিচারাধীন। ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি আবু তুরাব খান ও লুলু সরদারকে অবাহতি দিয়ে ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত।

আরও পড়ুন>> পান্থপথে অভিযানে এক ‘জঙ্গি’ নিহত

অভিযোগ গঠনের আড়াই বছর পর চলতি বছরের ১৯ জুন মামলার বাদী তৎকালীন কলাবাগান থানার এসআই সৈয়দ ইমরুল সায়েদ আদালতে সাক্ষ্য দেন। মামলায় ৬৫ জন সাক্ষীর মধ্যে একজনের সাক্ষ্য শেষ হয়। এরপর আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

সন্ত্রাস দমন টাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম ছারোয়ার খান জাকির জাগো নিউজকে বলেন, জাতীয় শোক দিবসের আগে ঢাকার পান্থপথের ওলিও হোটেলে বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সমন পাঠানো হচ্ছে। সাক্ষীদের আদালতে হাজির করে দ্রুত মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সুব্রত দেব নাথ জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলাটির ব্যাপারে অমনোযোগিতা থাকায় বিচাররিক কার্যক্রম এগোচ্ছে না। মামলার আসামি (নিলয় ও শাকিল) দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় আসামিরা জামিন পাচ্ছেন না। আসামিদের বিরুদ্ধে আনিতো অভিযোগের কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। আশা করছি মামলাটির রায়ে আসামিরা খালাস পাবেন। আমরা চাই দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। ন্যায়-অন্যায় রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে।

২০১৭ সালে ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই ৩০০ মিটার দূরে পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই অভিযানের এক পর্যায়ে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিকট বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ পাওয়া যায়। বিস্ফোরণে হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেওয়াল ও গ্রিল ধসে নিচে পড়ে।

আরও পড়ুন>> ৩২ নম্বরে হামলার পরিকল্পনা ছিল নিহত জঙ্গির: আইজিপি

এ ঘটনায় ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন কলাবাগান থানার এসআই সৈয়দ ইমরুল সায়েদ। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজমের পরিদর্শক রাজু আহম্মেদ।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- আকরাম হোসেন খান নিলয় ওরফে স্লেড উইলসন, নাজমুল হাসান ওরফে মামুন, আবুল কাশেম ফকির ওরফে আবু মুসাব, আব্দুল্লাহ আইচান কবিরাজ ওরফে রফিক, তারেক মোহাম্মদ ওরফে আদনান, কামরুল ইসলাম শাকিল ওরফে হারিকেন ওরফে রোবট ওরফে তানজিম, লুলু সরদার ওরফে সহিদ ওরফে মিস্ত্রি, তাজরীন খানম শুভ, সাদিয়া হোসনা লাকী, আবু তুরাব খান, তানভির ইয়াসিন করিম ওরফে হিটম্যান ওরফে জিন, হুমায়রা জাকির নাবিলা, নব মুসলিম আব্দুল্লাহ ও তাজুল ইসলাম ওরফে ছোটন ওরফে মোহাম্মদ ওরফে ফাহিম। এদের মধ্যে তাজুল ইসলাম কিশোর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শিশু আইনে আলাদা একটি চার্জশিট দাখিল করা হয়।

জেএ/এএসএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।