প্রেম মানেই নারীরা বেশি আবেগী, আর পুরুষরা একটু যেন পিছিয়ে। এই পুরোনো ধারণা কিন্তু ভেঙে দিচ্ছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা।
Advertisement
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় জানা গেছে, পুরুষরা নারীদের আগে প্রেমে পড়ে, এবং অনেক সময় বেশ তাড়াতাড়িও।
অ্যাডাম বোডের নেতৃত্বে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা গড়পড়তায় নারীদের চেয়ে এক মাস আগেই প্রেমে পড়ে। কিন্তু ব্যাপারটা শুধু আবেগের বিষয় নয়, বরং এটি একটি কৌশলও হতে পারে।
বোড বলেন, ‘পুরুষদের প্রমাণ করতে হয় যে তারা কমিটেড, নাহলে সম্পর্ক এগোয় না।’ অর্থাৎ, প্রেমে পড়া কখনও কখনও সঙ্গীকে মুগ্ধ করারই একটি অংশ।
Advertisement
এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন ৩৩টি দেশের ৮০০ জনের বেশি তরুণ-তরুণী, যারা সম্পর্কের একদম শুরুতে রয়েছেন – মানে প্রথম দুই বছরের মধ্যে। তারা জানিয়েছেন, তারা কখন প্রেমে পড়েছেন, কতটা গভীরভাবে অনুভব করেছেন, দিনে কতবার সঙ্গীকে মনে পড়েছে এবং সম্পর্কের প্রতি তারা কতটা দায়বদ্ধ ছিলেন।
>> মজার ব্যাপার হলো, নারীরা সাধারণত বেশি আবেগী হন, সঙ্গীর কথা বেশি ভাবেন, কিন্তু প্রেমে পড়ার দিক দিয়ে পুরুষরা অনেক সময় এগিয়ে।
>> আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য – ৩৯ শতাংশ মানুষ বলেছে, তারা প্রেমে পড়েছে তখন, যখন তারা আগে থেকেই সে সম্পর্কে ছিল। তার মানে, ‘ভালোবাসা প্রথম দর্শনে’ নয়, বরং ‘প্রথম ঝগড়ার পর’ ধরনের একটি ব্যাপার ঘটেছে তাদের সঙ্গে।
পুরনো গল্প কি ভুল?‘নারীরা বেশি প্রেমে পড়ে, পুরুষরা পরে আসে’ – এই চিন্তাকে আগাগোড়া একটি স্টেরিওটাইপ বলছে গবেষণাটি। বাস্তবতা আরও জটিল। পুরুষদের দ্রুত প্রেমে পড়া হয়তো আবেগ নয়, বরং একজনকে জয় করার সামাজিক চাপের প্রতিফলন। অর্থাৎ, কেউ যদি প্রথমে প্রেমে পড়ে, সে শুধু আবেগে নয়, দায়িত্বেও পড়ে।
Advertisement
ভালোবাসা কখন কার মনে বাসা বাঁধবে, সেটা ঠিক করে দেওয়া যায় না। তাই, কেউ যদি একটু বেশি আগেই প্রেমে পড়ে – তাকে নিয়ে হাসাহাসি না করে বরং ভাবুন, সে হয়তো চেষ্টা করছে সত্যিকারের কমিটমেন্ট দেখাতে।
সূত্র: ভাইস, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্টাডি অন রোম্যান্টিক লাভ
এএমপি/জেআইএম