খন্দকার বদিউজ্জামান বুলবুল
Advertisement
লাল মাটি সমৃদ্ধ ও শাল বৃক্ষের ঘন অরণ্যে আচ্ছাদিত টাঙ্গাইলের মধুপুর। ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস আর ঐতিহ্য ঘেরা মধুপুর। বংশাই নদীর কোণ ঘেঁষে অবস্থিত এই উপজেলার আছে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক অপরূপ দৃশ্য। ঐতিহাসিক মধুপুর গঢ়, জয়তেঁতুল গ্রামের ঝরনা, হরিণ ও বানরের আনাগোনা, চালা ও বাইদের মন ভোলানো চিত্রপট; সেই সাথে খাল-বিল। সব কিছু মিলিয়ে এক অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশ আপনাকে নিয়ে যাবে এক স্বপ্নীল রাজ্যে। আছে জাদুকরী স্বাদ ও ঘ্রাণের সুমিষ্ট আনারস। যা এ অঞ্চলের গর্বের প্রতীক।
দোখলা পিকনিক স্পটদূর-দূরন্ত থেকে আগত ভ্রমণপ্রেমিরা দেখলা পিকনিক স্পটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। এখানকার উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তা, ঘন অরণ্য ভ্রমণপিপাসুদের মুহূর্তেই প্রফুল্ল করতে সহায়ক। দোখলা ওয়াচ টাওয়ার থেকে বনের সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবে। দেখতে পাবেন বিরল প্রজাতির রক্ত চন্দন গাছ। বানর ও হনুমানের আনাগোনা আর পাখির কিচিরমিচিরে এক জাদুকরী পরিবেশ সৃষ্টি করে।
লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র৩০ একর জায়গা নিয়ে ১৯৬৬ সালে মধুপুর জাতীয় উদ্যানে স্থাপন করা হয় লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র। এখানে বন্যপ্রাণী ও তরুলতা আর শাল গাছের ঘনঘটা দেখে মনে হবে কোনো শিল্পীর নিখুঁত কারুকাজ। দোখলা পিকনিক স্পট থেকে কিছু দূর সামনে অগ্রসর হলেই চিত্রা হরিণের দেখা পাবেন। উল্লেখযোগ্য বানরের আনাগোনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। ইদানীং লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্রে ময়ূর ও কচ্ছপ দেখতে পাবেন।
Advertisement
আরও পড়ুন
সুসং দুর্গাপুর: সাদা মাটির বৈচিত্র্যময় জনপদ মনকে প্রশান্তি দিতে সমুদ্রসৈকতে একদিন পীরগাছা রাবার বাগানচোখ জুড়ানো সারিবদ্ধ সুউচ্চ রাবার গাছ মনে প্রশান্তির প্রলেপ এঁকে দেবে। সহস্রাধিক গাছ নিয়ে প্রায় ৩ হাজার ১০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত পীরগাছা রাবার বাগান। এখান থেকে আপনি রাবার সংগ্রহের ধাপগুলো সম্পর্কে ধারণা পাবেন। সুশীতল ছায়াতলে আবৃত্ পীরগাছা রাবার বাগান মধুপুর বনের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।
মধুপুর মায়াবী প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য ও মধুপুর জাতীয় উদ্যানের জন্য সুপরিচিত। সৌন্দর্যে মোড়ানো বিএডিসির সুদীর্ঘ ক্যাম্পাস শহরের ইট-পাথরের জঞ্জাল থেকে আপনাকে এক চিলতে ফুরসত দেবে। আনারসের রাজধানী খ্যাত মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে আনারসের ভাস্কর্য দেখতে পাবেন।
আনারসের জন্য প্রসিদ্ধ মধুপুরের আনারস বেচাকেনার বড় হাট অনুষ্ঠিত হয় জলছত্র নামক এলাকায়। এখানেই অবস্থিত বৃহত্তর কুষ্ঠ ব্যাধি হাসপাতাল। আছে সুবিশাল ভেষজ বনায়ন। কারিতাস সিল্ক ফ্যাক্টরি ও শোরুম। দুর্গাপুর গ্রামের পঞ্চপীরের মাজার এবং আম্বাড়িয়া গ্রামের জমিদার বাড়ি মধুপুরের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
Advertisement
মধুপুর শুধু প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে নয় বরং ইতিহাস ও ঐতিহ্যে আপনাকে মুগ্ধ করবে। ভিন্ন মাত্রার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে লাল মাটি সমৃদ্ধ ও চালা ও বাইদের মন ভোলানো লুকোচুরির মধুপুর আদর্শ জায়গা। রাজধানী থেকে ১৩৭ কিলোমিটার সড়ক দূরত্বে অবস্থিত এটি। মধুপুরে সড়কপথে যোগাযোগের সুব্যবস্থা আছে। তাই এখনই পরিকল্পনা করুন ঘুরে আসার।
লেখক: শিক্ষার্থী, আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ।
এসইউ/এমএস