কবিরুল বাসার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ। তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশক নিধনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন।
Advertisement
এরপরও বিমানবন্দর এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বেবিচক। এ বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন কবিরুল বাসার। সাক্ষাৎকার নিয়েছে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মুসা আহমেদ।
জাগো নিউজ: বিমানবন্দরে মশা নিয়ন্ত্রণে আপনি বেবিচকের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। তারপরও বেবিচক বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেন?
কবিরুল বাসার: ‘বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে আমাকে ডাকে ভিজিট করার জন্য। দুই সপ্তাহ আগে আমি বিমানবন্দরে গিয়েছি। এয়ারপোর্টে কিছু কাজ চলছে এখন। তৃতীয় টার্মিনাল সংলগ্ন দুটি লেক আছে। সেখানে প্রচুর কিউলেক্স মশার লার্ভা পেয়েছি। এগুলো নিধনে তাদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। এতদিনে তারা তা করে ফেলার কথা।
Advertisement
ওইদিন পরির্দশনে একটা জিনিস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বলে আসছি, এক সপ্তাহের মধ্যে যেন বিমানবন্দরের ভেতর একটি লার্ভাও পাওয়া না যায়। বিমানবন্দরের ভেতর লার্ভা যেন শূন্য থাকে। এটা নিশ্চিত করবে বলে তারা জানিয়েছে।
জাগো নিউজ: বিমানবন্দরে যদি মশা নিয়ন্ত্রণেই থাকে, তাহলে এতে মশা কোথা থেকে আসে?
কবিরুল বাসার: বিমানবন্দরের সীমানা ঘেঁষা এলাকা বাউনিয়া। সেখানে বেশ কিছু ডোবা আছে, যেগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। ওই ব্যক্তি মালিকানাধীন ডোবায় মশার লার্ভা প্রচুর। সেগুলো কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এসব ডোবায় জন্ম নিয়ে প্রচুর কিউলেক্স মশা বিমানবন্দরে ঢুকছে। আরেকটা হচ্ছে হাজি ক্যাম্পের পাশের একটি বড় খাল। এ খাল থেকে প্রচুর মশা বিমানবন্দরে ঢুকছে। এই দুটি জায়গা যদি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাহলে বিমানবন্দরে মশাটা কমে যাবে।
আরও পড়ুনবিমানের লয়্যালটি ক্লাবে সদস্য হলে ফ্রি টিকিট-লাউঞ্জ সুবিধাম্যাজিস্ট্রেট নওশাদের স্পর্শে বদলে গেছে শাহজালাল বিমানবন্দরশাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা
Advertisement
জাগো নিউজ: বিমানবন্দরের বাইরে মশক নিধনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তারা কী সেটা করছে বলে মনে করেন?
কবিরুল বাসার: বিমানবন্দরের বাইরে মশা নিধনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। সে কাজটি তাদের করতে হবে। বিমানবন্দরের পশ্চিম-দক্ষিণ দিকে বাউনিয়া এলাকায় অসংখ্য ডোবা আছে। সেখান বেশি মশার লার্ভা রয়েছে। বাউনিয়ার ডোবার মশা বিমানবন্দরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
জাগো নিউজ: বিশাল এলাকা নিয়ে বিমানবন্দর। একটি মশা কীভাবে এতদূর উড়ে আসে?
কবিরুল বাসার: কিউলেক্স মশা বাল্ব বা যে কোনো আলো আকর্ষণ করে। এসব মশা প্রায় দুই কিলোমিটার উড়ে আলোয় যেতে পারে। এভাবেই বাইরের মশা বিমানবন্দরে ঢুকছে।
জাগো নিউজ: জাগো নিউজকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
কবিরুল বাসার: জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ।
এমএমএ/এএসএ/এএসএম