ধর্ম

নিয়ত না পড়ে নামাজ আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন: নামাজ শুরু করার সময় নিয়ত পড়া কি জরুরি? নিয়ত না পড়লে কি নামাজ হবে?

Advertisement

উত্তর: নিয়ত হল মনে কোনো কাজের দৃঢ় ইচ্ছা করা। এই ইচ্ছা সব আমলের জন্য জরুরি। নামাজের জন্যও জরুরি। কেউ যখন নামাজে দাঁড়াবে, তার অন্তরে নিয়ত থাকতে হবে, তার জানা থাকতে হবে যে সে নামাজ শুরু করছে, কোন নামাজ শুরু করছে, কত রাকাত নামাজ সে পড়বে ইত্যাদি। অন্তরের এই ইচ্ছা ও জানা থাকার নামই নিয়ত।

নামাজ শুরু করার আগে নিয়ত পড়া বা মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয়। আরবিতে নিয়ত করাও জরুরি নয়। আমাদের দেশে নামাজের নিয়ত হিসেবে যে আরবি বাক্যগুলো প্রচলিত বা প্রচার করা হয়, এগুলো কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। নামাজ শুরু করার আগে আরবিতে এভাবে নিয়ত করাকে জরুরি মনে করা ঠিক নয়।

তবে কেউ যদি অন্তরের নিয়তের পাশাপাশি নিয়তের বিষয়টি মুখেও উচ্চারণ করতে চায় তবে তারও অবকাশ আছে। এটা নিজের ভাষায় করা যেতে পারে। যেমন জোহরের ফরজ নামাজ শুরু করার আগে মনে মনে বা মুখে উচ্চারণ করে বলা যেতে পারে, ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিবলামুখী হয়ে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করছি’।

Advertisement

ফরজ নামাজগুলোতে কোন নামাজ আদায় করা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে জানা থাকা জরুরি। যেমন, ফজরের ফরজ নামাজ পড়ছি, জোহরের ফরজ নামাজ পড়ছি এভাবে কোন ফরজ নামাজ তা নির্দিষ্ট নিয়ত থাকতে হবে। ফরজ নামাজ ছুটে গেলে কাজা আদায়ের ক্ষেত্রেও ওয়াক্ত নির্দিষ্ট করে নিয়ত থাকা জরুরি।

কারো যদি কাজা নামাজ অনেক বেশি হয় এবং কাজা হওয়ার দিন-তারিখ মনে না থাকে, তাহলে এভাবে নিয়ত করবে যে ’আমার জিম্মায় কাজা হিসেবে থাকা সর্বশেষ জোহরের নামাজের কাজা আদায় করছি’। এভাবে প্রত্যেক ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করার সময় নিয়ত করতে হবে। যতদিন তার মন এ সাক্ষ্য না দেবে যে তার জিম্মায় আর কোনো কাজা নামাজ বাকি নেই, ততদিন পর্যন্ত কাজা নামাজ আদায় করতে থাকবে।

ফরজের সাথে প্রতি ওয়াক্তে আমরা যে সুন্নত নামাজগুলো আদায় করি, সেগুলোতে ওয়াক্ত নির্দিষ্ট করে নিয়ত থাকা ভালো, কিন্তু জরুরি নয়। এ সব নামাজ শুধু ‘নামাজ আদায় করছি’ এ রকম নিয়তে আদায় করলেও হয়ে যাবে। কেউ যদি ফজরের আগে দুরাকাত, জোহরের আগে চার রাকাত, মাগরিবের পর দুরাকাত বা ইশার পর দুরাকাত নামাজ শুধু নামাজ পড়ার নিয়তে আদায় করে তাহলে তা ওই ওয়াক্তের সুন্নত হিসেবেই আদায় হবে। আর বিতর নামাজের সময় ‘বিতর নামাজ পড়ছি’ এ রকম নিয়ত করতে হবে।

এ ছাড়া অন্যান্য নফলের ক্ষেত্রেও শুধু ‘নামাজ আদায় করছি’ বা ‘নফল নামাজ আদায় করছি’ এমন নিয়ত থাকাই যথেষ্ট।

Advertisement

ওএফএফ