মা’কিল ইবনে ইয়াসার (রা.) বলেন, একদিন আমি আবু বকর সিদ্দিকের (রা.) সঙ্গে নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে গেলাম।
Advertisement
নবীজি (সা.) বললেন, আবু বকর! শিরক পিঁপড়ার পদচারণার চেয়েও সন্তর্পণে তোমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।
আবু বকর (রা.) বললেন, আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে ইলাহ গণ্য করা ছাড়াও কি শিরক আছে?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শিরক পিঁপড়ার পদচারণার চেয়ে সূক্ষ্মও হয়। আমি তোমাকে এমন দোয়া শিখিয়ে দিচ্ছি, যা পড়লে ছোট ও বড় শিরক থেকে তুমি বেঁচে যাবে। দোয়াটি হলো:
Advertisement
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لا أَعْلَمُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লামু ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আ’লামু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে আপনার সঙ্গে শিরক করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজান্তে কোনো শিরক হয়ে গেলে সেজন্য ক্ষমা চাই। (ইবনুস সুন্নী)
শিরক আল্লাহর কাছে সবচেয়ে গুরুতর পাপ। কোরআনে শিরককে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জুলুম বলা হয়েছে এবং বিভিন্ন আয়াতে বারবার শিরক থেকে বেঁচে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করলেও শিরক ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। এবং যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে এক মহাপাপ করে। (সুরা নিসা : ৪৮)
Advertisement
শিরক যারা করবে, তাদের জন্য জান্নাত হারাম ঘোষণা করে আল্লাহ বলেন, আর যে আল্লাহর সাথে শরিক করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। (সুরা মায়েদা: ৭২)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সা.) প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে গুরুতর পাপ কী? তিনি বললেন, সবচেয়ে কঠিন পাপ এই যে, তুমি আল্লাহর সমকক্ষ বানাবে অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। (সহিহ বুখারি: ২৪৯৭)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ গুনাহ চারটি; ১. আল্লাহর সাথে শরিক করা; ২. কোনো ব্যক্তিকে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করা; ৩. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া; ৪. মিথ্যা বলা অথবা তিনি বলেছেন মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। (সহিহ বুখারি: ৬৮৭১)
ওএফএফ