আইন-আদালত

রামপুরায় একজনকে গুলি ও দুজনকে হত্যায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষ

গণঅভ্যুত্থানকালে রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা একজনকে গুলি এবং দুজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

Advertisement

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুর রউফকে জেরার মধ্যে দিয়ে তা শেষ হয়। এখন নিয়ম অনুযায়ী আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন ঠিক করেন। এর আগে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন- সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান, রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

Advertisement

আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন চঞ্চল। তার আইনজীবী সারওয়ার জাহান সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার আবেদন করেছেন।

এ মামলায় গত বছরের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। ৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের পক্ষে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আমির হোসেন জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। বাসার কাছে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান তিনি। এসময় পুলিশ গুলি শুরু করে। আমির দৌড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় ওঠে। সেখানে আমিরকে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। এক পুলিশ সদস্য তাকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন। ভয়ে আমির লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো আমিরের দুই পায়ে লাগে।

Advertisement

পরে পুলিশ চলে গেলে আমির ঝাঁপ দিয়ে কোনোরকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি।

এছাড়া একই দিন রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।

এফএইচ/একিউএফ/জেআইএম