আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। ভোটারদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
Advertisement
ইসির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৬০ হাজার ৫৬৬ জন এবং নারী ২ লাখ ৪৬ হাজার ২২০ জন। এখন পর্যন্ত অনুমোদিত ভোটার ১৫ লাখ ২৮০ জন, আর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ৬ হাজার ৫০৮ জনের আবেদন।
এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মূল লক্ষ্য প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। এরই ধারাবাহিকতায় চালু করা হয় ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ। গত ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয় এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন।
এদিকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ইউরোপের দেশ গ্রিসে বসবাস করলেও পোস্টাল ভোটের নিবন্ধনে অংশগ্রহণ এখনো আশানুরূপ নয়। এজন্য প্রচারণার অভাব মনে করছেন কমিউনিটি নেতারা। গ্রিসে বসবাস করেন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশি। কিন্তু পোস্টাল ভোটার নিবন্ধন করেছেন মাত্র ১ হাজার ১১৯ জন।
Advertisement
গ্রিস প্রবাসীরা জানান, অনেকেই এই কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন না। প্রক্রিয়া নিয়ে গ্রিসে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তারা নিবন্ধন করতে পারেননি।
আব্দুর রহিম নামের এক প্রবাসী বলেন, অনেক আগ্রহ ছিল ভোট দেব। কিন্তু নিবন্ধনের নিয়ম কানন সম্পর্কে জানি না তাই নিবন্ধন করতে পারিনি। দূতাবাস বা কমিউনিটি যদি সক্রিয় ভূমিকা নিতো যেমন প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা, মসজিদ, দোকানপাটে প্রচারণা এবং কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করে প্রচারণা চালাতো তাহলে সবার জানার সুযোগ হতো।
এই কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রচারণা চালানো হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি ও কমিউনিটি নেতারাও।
গ্রিস বিএনপি নেতা শাহ গিয়াস আল রিমন বলেন, ‘ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী নিবন্ধন করলেও গ্রিসে হতাশাজনক অবস্থা। দূতাবাস প্রাথমিক প্রচারণা শুরু করলেও কার ইশারায় বা কেন তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তা জানি না।’
Advertisement
রিমন আরও যোগ করেন, আবেদন করার পর ব্যালট পেপার যখন আসবে এবং ভোট দিয়ে পাঠালে তা ঠিক মতো পৌঁছাবে কি না বা কীভাবে কোনদিন পৌঁছাবে, তা আমরা জানি না। দূতাবাসের উচিত ছিল এসব বিষয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করে জানানো।
গ্রিস বিএনপির সাবেক সভাপতি জিএম মুখলেছুর রহমান বলেন, ‘৮০ শতাংশ প্রবাসীর এনআইডি না থাকার কারণে নিবন্ধন করতে পারছে না। অনেক প্রবাসী দেশে যেতে পারেনি অনেক বছর ধরে। এ কারণে এনআইডি করতে পারেননি। গ্রিসে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এথেন্সস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের প্রচারণার কথা বললেই বলে তাদের লোকবল সংকট।’
বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বসবাসরত এই দেশে ভোটার নিবন্ধন সংখ্যা খুবই দুঃখজনক। এর সম্পূর্ণ ব্যর্থতা বাংলাদেশ সরকারের এই দূতাবাসের। দূতাবাস দায়িত্ব নিয়ে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে সহযোগিতা করা উচিত ছিল। তারা লোকবলের সংকটের দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আনোয়ার হোসেন দেওয়ান বলেন, আমাদের নিজেদের কিছু ইন্টারনলি সমস্যা ছিল। অনলাইনে আমাদের প্রচারণা যতটা করা উচিত ছিল তা আমরা করতে পারিনি। এখন আমাদের অনলাইন ব্যবস্থাপনাটা বিভিন্নভাবে চালু হয়েছে। অচিরেই অনলাইন ভোটার ব্যবস্থাটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেব গ্রিসের সকল শহরে।
তিনি বলেন, দূতাবাস অনেক দেরিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রচার প্রচারণায় দুর্বলতা থাকায় আমরা একটু পিছিয়ে আছি।
অপরদিকে গ্রিস বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় অফিসে প্রতিদিন নিবন্ধন করতে প্রবাসীদের সহযোগিতা করা হয় বলে জানান গ্রিস বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক মিয়া।
এ বিষয়ে জানতে গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে দূতাবাসের প্রথম সচিব (ডিপ্লোমেটিক উইং) রাবেয়া বেগম জানান, দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি প্রবাসী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে একাধিকবার প্রচারণা করা হয়েছে। এমনকি দূতাবাসেও এ সংক্রান্ত সভা আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান।
দেশভিত্তিক হিসাবে পোস্টাল ব্যালটে ভোটার নিবন্ধনে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ থেকেই। দেশে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৪ জন ভোটার। এর বাইরে প্রবাসী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব: ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৩ জন, মালয়েশিয়া: ৮৩ হাজার ৮৪৯ জন, কাতার: ৭৫ হাজার ৪০৩ জন, ওমান: ৫৪ হাজার ১৫০ জন, কুয়েত: ৩৫ হাজার ৮২ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত: ৩৬ হাজার ৫৮৩ জন, যুক্তরাজ্য: ৩২ হাজার ১৫১ জন, যুক্তরাষ্ট্র: ৩০ হাজার ৯৮৪ জন, ইতালি: ২৪ হাজার ১৮৩ জন।
এছাড়াও বাহরাইন থেকে ১৯ হাজার ৪৩৩, সিঙ্গাপুর ১৮ হাজার ১০৭, কানাডা ১৪ হাজার ৬৩৯, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১১ হাজার ৭০১, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১১ হাজার ১৪৮ জন নিবন্ধন করেছেন।
এমআরএম/এমএস