তথ্যপ্রযুক্তি

রাস্তার খোলা পেট্রোল ব্যবহারে বাইকের যেসব ক্ষতি হতে পারে

শহর বা গ্রামীণ এলাকায় অনেক সময় দেখা যায়, বাইক চালকরা সস্তা বা রাস্তার খোলা পেট্রোল ব্যবহার করেন। একদিকে মনে হতে পারে এটি খরচ সাশ্রয় করছে, কিন্তু বাস্তবে এমন জ্বালানি ব্যবহার করলে বাইকের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। খোলা বা অনিরাপদভাবে সংরক্ষিত পেট্রোল ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিন, ফুয়েল সিস্টেম এবং নিরাপত্তা তিনটি দিকেই সমস্যা তৈরি হয়।

Advertisement

১. ইঞ্জিনের ওপর প্রভাবখোলা পেট্রোলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এতে থাকা ময়লা, ধুলা এবং পানি। এই অশোধিত যৌগগুলো ইঞ্জিনে প্রবেশ করলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো ইঞ্জিন নক বা প্রি-ইগনিশন। এটি ঘটে যখন কমপ্রেশন চলাকালীন জ্বালানির অযাচিত আগুন ধরে যায়। ফলে পিস্টন ও সিলিন্ডারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স কমে যায়।

এছাড়া ধুলা ও ময়লা পিস্টন ও সিলিন্ডারের সঙ্গে ঘষা খায়, যা ধীরে ধীরে এই অংশগুলো ক্ষয় করে। এর প্রভাব দেখা দেয় এমনভাবে যে বাইকের পাওয়ার কমে যায়, ইঞ্জিন রেগুলারভাবে চলতে চায় না, এবং মাঝে মাঝে স্টলিং-এর সমস্যাও দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের মেরামত বা পিস্টন-সিলিন্ডার রিপ্লেসমেন্টে বড় খরচও হয়।

২. ফুয়েল সিস্টেমের ক্ষতিখোলা পেট্রোল ব্যবহারের আরেকটি বড় সমস্যা হলো ফুয়েল সিস্টেমে জমে যাওয়া ময়লা। এটি প্রথমে ফুয়েল ফিল্টার ব্লক করে, ফলে জ্বালানি ঠিকভাবে ইঞ্জিনে পৌঁছায় না। এছাড়া, যদি বাইক কার্বুরেটর বা ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেমে ময়লা প্রবেশ করে, তবে এটি ইনজেক্টর ব্লক করতে পারে। কার্বুরেটরও ময়লার কারণে ঠিকমতো মিশ্রণ তৈরি করতে পারে না।

Advertisement

ফুয়েল লাইনে জমে থাকা কণা বা ধুলো পাইপ বা হোসের ক্ষতি ঘটাতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি লিক বা ফুয়েল ফ্লো সমস্যার কারণ হয়। অর্থাৎ, খোলা পেট্রোল ব্যবহার করলে শুধু ইঞ্জিন নয়, পুরো ফুয়েল সাপ্লাই চেইনই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

৩. নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকিখোলা পেট্রোল সংরক্ষণ বা রাস্তার ধূলিকণার সংস্পর্শে আনা আগুনের সম্ভাবনাও বাড়ায়। এটি অত্যন্ত জ্বলনযোগ্য এবং অল্প ভুলেই দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। এছাড়া, নোংরা জ্বালানি ব্যবহার করলে বেশি ধোঁয়া তৈরি হয়, যা পরিবেশ ও বাইকের কমফোর্টে প্রভাব ফেলে।

বাইক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য কিছু সাধারণ নিয়ম মানা গুরুত্বপূর্ণ-১. শুধু পরিচিত বা অফিসিয়াল ফুয়েল পাম্প থেকে জ্বালানি নিন।২. ফুয়েল ট্যাঙ্ক ঢেকে রাখুন, যাতে ধুলো, জল বা ময়লা প্রবেশ না করতে পারে।৩. ফুয়েল ফিল্টার নিয়মিত পরীক্ষা ও পরিবর্তন করুন।৪. ইঞ্জিনের নিয়মিত সার্ভিস করুন এবং অস্বাভাবিক শব্দ বা কম পাওয়ারের লক্ষণ এলে অবিলম্বে মেরামত করুন।৫. রাস্তার খোলা পেট্রোল থেকে বিরত থাকুন, বিশেষ করে ধুলা ও দূষণের সময়।

আরও পড়ুনবৃষ্টিতে বাইকের সাইলেন্সারে পানি ঢুকলে কী করবেন?বাইকের ‘এবিএস সিস্টেম’ আসলে কী জানেন?

Advertisement

সূত্র: অটোকার ইন্ডিয়া

কেএসকে