লাইফস্টাইল

কষ্ট কমাতে খেতে পারেন ‘ব্রেকআপ কেক’

ভাঙা সম্পর্কের ব্যথা কখনো নিঃশব্দ, কখনো আবার ভীষণ শব্দ করে বুকের ভেতর আছড়ে পড়ে। একসময় যার একটি মেসেজের অপেক্ষায় রাত কেটে যেত, হঠাৎ করেই তার নামটাই হয়ে ওঠে এড়িয়ে চলার তালিকায়। ব্রেকআপ মানেই শুধু সম্পর্কের শেষ নয়; এটা অভ্যাস ভাঙারও সময়। আর ঠিক এই জায়গাতেই অনেকের জীবনে ঢুকে পড়ে এক অদ্ভুত কিন্তু আরামদায়ক সঙ্গী ‘খাবার’।

Advertisement

মন খারাপের দিনে আইসক্রিম, চকলেট কিংবা প্রিয় কোনো ডেজার্টে একটু বেশি মনোযোগ দেওয়া নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই তালিকায় যোগ হয়েছে এক ভিন্নধর্মী নাম ‘ব্রেকআপ কেক’।

কী এই ব্রেকআপ কেক?

ব্রেকআপ কেক আসলে শুধু একটি কেক নয়, এটি একধরনের অনুভূতির প্রকাশ। সাধারণত চকলেট কেকের ওপর ফ্রস্টিং ও রঙিন ফন্ড্যান্ট দিয়ে লেখা থাকে ছোট ছোট বাক্য ‘নো’, ‘নেক্সট’, ‘বাই’, ‘ইটস ওভার’। যেন না বলা কথাগুলো কেকের গায়েই লিখে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

এই কেক বানানো বা খাওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের কষ্টটাকে হালকা করার চেষ্টা করে। কেউ বানায় নিজের হাতে, কেউ অর্ডার করে নেয়। কিন্তু উদ্দেশ্য একটাই নিজেকে বোঝানো, ‘সব শেষ হলেও আমি ঠিক আছি।’

কষ্টের দিনে খাবার কেন এত জরুরি?

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মন খারাপের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই ‘কমফোর্ট ফুড’ এর দিকে ঝুঁকে পড়ে। মিষ্টি বা চকলেটজাত খাবার খেলে শরীরে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের নিঃসরণ বাড়ে, যা সাময়িকভাবে হলেও মন ভালো করতে সাহায্য করে।

ব্রেকআপ কেক সেই চিরচেনা কমফোর্ট ফুডের সঙ্গে যোগ করে একধরনের প্রতীকী শক্তি। প্রতিটি কামড় যেন বলে, হ্যাঁ, কষ্ট হয়েছে। কিন্তু আমি ভেঙে পড়িনি।

Advertisement

একা খাওয়াই এখানে আসল আনন্দ

এই কেকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এটা ভাগ করার জন্য নয়। বরং একা বসে, নিজের সময় নিয়ে খাওয়ার জন্য। অনেকে বলেন, কেকের মাঝখান থেকে সরাসরি চামচ ঢুকিয়ে এক কামড়ে খাওয়ার মধ্যে যে অদ্ভুত স্বস্তি আছে, তা অন্য কোনো খাবারে নেই। এটা কোনো ভদ্রতার মুহূর্ত নয়, বরং নিজের প্রতি একটু নির্মমভাবে সৎ থাকার সময়।

ট্রেন্ড হলেও অনুভূতিটা খুব ব্যক্তিগত

ব্রেকআপ কেক এখন সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড হলেও এর অনুভূতি ভীষণ ব্যক্তিগত। কেউ হয়তো ভ্যালেন্টাইনস ডেতে নিজের জন্য বানাচ্ছে, কেউ আবার দীর্ঘ সম্পর্ক ভাঙার পর প্রথম নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর দিনে। এটা কোনো প্রতিশোধ নয়, কাউকে খোঁচা দেওয়াও নয়। বরং নিজের মনকে একটু যত্ন করে বলা, তুমি কষ্ট পেয়েছ, ঠিক আছে। এবার একটু মিষ্টি খাও।

ব্রেকআপ কখনোই সহজ নয়। সময় লাগে, অভ্যাস বদলাতে কষ্ট হয়। কিন্তু নিজের মনকে বোঝাতে ছোট ছোট উপায়ও দরকার। কারও জন্য সেটা গান, কারও জন্য লেখা, আবার কারও জন্য এক টুকরো কেক। তাই যদি মনটা আজ ভারী লাগে, কাউকে ফোন করতে ইচ্ছে না করে, বাইরে বেরোতে ভালো না লাগে; চুলায় কেক বসান বা একটা ব্রেকআপ কেক অর্ডার করুন। সব সমস্যার সমাধান না হলেও, অন্তত সেই মুহূর্তটুকুতে কষ্টটা একটু কম লাগবে।

জেএস/এমএস