কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে নয়টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট প্রায় ৯ ঘণ্টা যাবৎ চেষ্টা চালায়।
Advertisement
তবে এ ঘটনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লারে কোনো ক্ষতি হয়নি। স্বাভাবিক রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এমনটি জানিয়েছেন মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম।
এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) নয়টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে মহেশখালী, চকরিয়া ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২টিসহ ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল বাহিনীর একাধিক ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
Advertisement
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি সংশ্লিষ্টরা জানান, আগুনের ঘটনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোনো প্রকার ক্ষতি হয়নি। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, তখন জানা যাবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে পথশিশুদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তারাই মূলত আগুন লাগিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে অবস্থিত এবং পুকুর সদৃশ একটি কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা। এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন বয়লার এলাকা থেকে তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত না। আসল ঘটনা কী, তা জানার প্রচেষ্টা চলছে।
Advertisement
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস