একুশে বইমেলা

তুমি এলে হারিয়ে যাওয়ার দিনে: আনন্দ-বেদনার মিশ্রণ

উম্মে হাবিবা কনা

Advertisement

একটি দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র নষ্ট হয়ে বিষাক্ত হয়ে গেলে, রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষ ছড়িয়ে পড়লে কতটা খারাপ পরিস্থিতি হয়; সেটা তুলে ধরা হয়েছে ‘তুমি এলে হারিয়ে যাওয়ার দিনে’ বইটিতে। লেখক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের উপন্যাসটিতে তাহমিদ তরুণ যুবক, প্রধান চরিত্র। কৈশোরকাল পেরিয়ে শহরে আসে বাবা-মায়ের সাথে। উদ্দেশ্য পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়া। তার বাবা-মা সার্থক হন তাকে একজন ভালো মানুষ বানাতে পেরে।

বইটিতে উঠে এসেছে শিক্ষককে সম্মান করার বিষয় ও ক্যাম্পাস রাজনীতি। এ ছাড়া ধর্মীয় জ্ঞান ও বিধি নিষেধ মানা, কিশোর গ্যাং, রাজনীতি, কোটা সংস্কারসহ নানাবিধ দিক তুলে ধরেছেন লেখক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম।

সত্যের জয় হয়েছে, অনেক প্রিয়জন হারিয়ে গেছে। আনন্দ, বিষণ্ণতা আর দুঃশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে পুরো উপন্যাস। তবে এখানে সুন্দর পারিবারিক সম্পর্ক দেখানো হলেও তার দাদির বিষয়টি নিয়ে আর লেখা হয়নি। যেটা লেখা উচিত ছিল।

Advertisement

উপন্যাসে হুজাইফা একজন দায়িত্বশীল বাবা। যিনি ছেলের পড়াশোনার কথা মাথায় রেখে রিকশা চালিয়ে শহরের স্কুলে পড়ান। তাহমিদ একজন সৎ এবং ত্যাগী চরিত্র। সে ছাত্র হিসেবে, বন্ধু হিসেবে, ছেলে হিসেবে সর্বোত্তম ভূমিকায়।

আরও পড়ুনমাদার অফ ডেমোক্রেসি: প্রামাণ্য ঐতিহাসিক দলিল আমাকে নেয়নি কোনো নিঃসঙ্গ পায়রা: ঐশ্বরিক প্রেমের প্রলেপ 

আশরাফ মিয়া একজন সফল মানুষ। যিনি দরিদ্র অবস্থান থেকে পরিশ্রম করে নিজেকে যথাসম্ভব প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি গরিবদের সাহায্য করতেন, পাশে থাকতেন সব সময়। আমরা সমাজে প্রতিনিয়ত যেটা দেখি, একটু উপার্জন বেড়ে গেলেই অতীত ভুলে গরিবদের অবজ্ঞা করতে থাকি। অথচ আশরাফ মিয়া পাশে থাকেন তার সর্বোচ্চটা দিয়ে। কখনো অর্থ দিয়ে, কখনোবা সঙ্গ দিয়ে।

লেখক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের এটি দ্বিতীয় উপন্যাস। তিনি সব সময় চেষ্টা করেন লেখার মাধ্যমে শিক্ষণীয় বিষয় তুলে ধরতে। এ ছাড়া তিনি বইটিতে কুরআনের ব্যাখ্যাসহ আয়াত তুলে ধরেছেন। বইটি পড়লে যে কোনো বয়সী পাঠক নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারবেন বলে মনে করছি।

Advertisement

বই: তুমি এলে হারিয়ে যাওয়ার দিনে লেখক: মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামপ্রকাশনী: বইমই প্রকাশনীপ্রচ্ছদ: ফারিহা তাবাসসুম মূল্য: ৩০০ টাকা।

এসইউ