মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর এলাকায় ৮০ বছরের পুরোনো পৈত্রিক বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পালবাড়ির বাসিন্দা জমির মালিক লুৎফে হাবীব।
Advertisement
তার অভিযোগ, একাধিক আদালতের রায় তাদের পক্ষে থাকার পরও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেআইনিভাবে জমিতে অনুপ্রবেশ করে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে, যা আদালত অবমাননার শামিল।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লুৎফে হাবীব এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তারা শ্রীনগর থানার ষোলঘর এলাকার পালবাড়ির বাসিন্দা। জমির মালিকদের মধ্যে রয়েছেন লুৎফে হাবীব, নাঈমা হাবিব, ইমরান হাবিব ও নাসিমা হাবিব। জমির একটি অংশের মালিক শারমিন রহমান ও কাজী রুবেল। ১৯৪৩ সাল থেকে তাদের পূর্বপুরুষরা সাবকবলা দলিলমূলে এই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। বর্তমানে সেখানে সীমানা প্রাচীরসহ ৮–১০টি পাকা ও সেমিপাকা ঘর রয়েছে, যেখানে অন্তত ২০ জন ভাড়াটিয়া বসবাস করছেন।
Advertisement
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০০৭ সালে একটি প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় জেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ৭/২০০৭ নম্বর দেওয়ানি মামলা দায়ের করে জমিটিকে সরকারি খাস সম্পত্তি ঘোষণার চেষ্টা করে। তবে ২০১৮ সালে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত মামলাটি খারিজ করেন। পরে সরকার পক্ষ আপিল করলেও ২০২৪ সালে অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।
লুৎফে হাবীব আরও জানান, জেলা প্রশাসন ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করলে ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট মামলাটি পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। তবে রায়ে জমিটিকে খাস সম্পত্তি ঘোষণা করা হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারাধীন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি রাতের আঁধারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বসতবাড়ির পাশে সাইনবোর্ড টানানো হয়। তারা এটিকে বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং আদালত অবমাননার শামিল বলে দাবি করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ও ভূমি উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
Advertisement
টিটি/এমআরএম/এএসএম