আইন-আদালত

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু ২০ জানুয়ারি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২০ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

Advertisement

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল যুক্তিতর্কের এ দিন ঠিক করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালের বাইরে চত্বরে এক ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের বলেন, আজ আবু সাঈদের মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সমাপ্ত হয়েছে। এখন মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২০ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আদালত।

গত ৭ আগস্ট মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে–২। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ মামলায় যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য আগামী ২০ জানুয়ারি দিন ঠিক করেন আদালত। আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) রুহুল আমিনকে জেরা শেষ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

Advertisement

গত ৩০ ডিসেম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে জেরার জন্য দিন ঠিক করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল-২ এ তিনদিনের মতো জবানবন্দি দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামি। তিনি এ মামলার তদন্তের সময় জব্দ করা ভিডিওর বিষয়ে আদালতে তথ্য দেন। ট্রাইব্যুনালে ওইদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, সহিদুল ইসলাম সরদার ও শেখ মইনুল করিম।

এর আগে ১৮ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। মোট ২৫ জন সাক্ষী দেন রাষ্ট্রপক্ষে।

এ মামলার ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়, তাদের মধ্যে গ্রেফতার ৬ জন আজ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

Advertisement

আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ৩০ জুন ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদেই সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

এফএইচ/এমএএইচ/এএসএম