নোয়াখালীর সদরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে লোকজন নিয়ে বিদ্যালয় ঘেরাও করার অভিযোগ উঠেছে মো. আবদুস সোবহান পারভেজ নামে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
Advertisement
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযুক্ত আবদুস সোবহান পারভেজ বিনোদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে বিদ্যালয় ঘেরাও কর্মসূচীর এক মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
Advertisement
এতে সঙ্গে থাকা লোকজনের উদ্দেশ্যে ওই নেতাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত ১৭ বছরে বিনোদপুরের সামাজিক কাজ, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কিংবা গরিব-মেহনতি মানুষের পাশে কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তি ছিল না। মানুষের সুখে-দুঃখে আমরাই ছিলাম। এখন আমাকে যদি সভাপতি হিসেবে আপনারা যোগ্য মনে করেন তাহলে সবাই এ পদে আমার নাম এক নম্বরে দিতে অনুরোধ করেন।’
এ সময় উপস্থিত সবাই ‘যোগ্য’ ‘যোগ্য’ বলে আওয়াজ তোলেন। ভিডিওর শেষে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের দরজার সামনে লোকজনকে জড়ো হয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে দেখা যায়।
যুবদল নেতা আবদুস সোবহান পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে জড়িত আছি। সভাপতি পদে বিদ্যালয় থেকে তিন জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রথমে জনের সনদ ভুয়া। পরে এক রাজনৈতিক নেতার অনুরোধে দ্বিতীয় জনকে সভাপতি মনোনীত করা হচ্ছে। এলাকার মানুষ তা মানে না। তাই আজ আমিসহ অভিভাবকরা ওই তালিকা পরিবর্তন করে আমার নাম যুক্ত করতে বিদ্যালয়ে গেছে। এখানে ঘোরাও করার মতো কিছু হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিনকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধমকিতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রধান শিক্ষক গত ৫দিন বিদ্যালয়ে আসেন না। কারো ফোনও ধরছেন না।
Advertisement
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইকবাল হোসেন মজনু/এনএইচআর/জেআইএম