খেলাধুলা

‘ওরা কিছু না করতে পারলে আমরা টাকা ফেরত চাই নাকি?’

বাংলাদেশ আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি নেবে না- এখনও নিশ্চিত নয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে আইসিসিকে ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করেছে বিসিবি। এখনও চূড়ান্ত কিছুই হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেললে ক্রিকেটারদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কিনা- এ প্রশ্নে যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছেন বিসিবির অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলাম। তিনি রীতিমতো বলে বসেন, ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে গিয়ে কিছু না করতে পারলে (বিসিবি) টাকা ফেরত চাই নাকি!

Advertisement

বুধবার বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বিসিবি। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নাজমুল। সেখানেই ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নে নাজমুল বলেন, ‘কেন? ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, খারাপ খেলে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করতছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে।’

ক্রিকেটাররা যদি দাবি করেন সে ক্ষেত্রে কি ব্যাখা দিবেন প্রশ্নে নাজমুল বলেন, ‘আমাদের কোনো ব্যাখ্যা নাই। কারণ হচ্ছে যে, এই প্রশ্নের উত্তর... মানে প্রশ্নটা তুলতেই পারবে না। কারণ যে আমরা যে ওদের পিছে এত খরচ করেছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারতেছে না, আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈশ্বিক শিরোপা আনতে পারছি? কোনো একটা জায়গায় আমরা কতটুকু কি করতে পারছি? তাইলে তো প্রত্যেকবারই আমরা বলতে পারি যে, তোমরা খেলতে পারো নাই, তোমাদের পিছে যা খরচ করছি এটা এবার তোমরা এবার তোমাদের কাছ থেকে আমরা নিতে থাকি। ফেরত দাও।’

বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ না খেললে বড়সড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বিসিবি। কারণ এমন বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সাথে লভ্যাংশ ভাগাভাগি করে আইসিসি। তবে নাজমুল মনে করেন বিশ্বকাপ না খেললে বোর্ডের কোনো ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে ক্রিকেটারদের।

Advertisement

কয়েকদিন আগে তামিম ইকবালকে ভারতের দালাল আখ্যা দেওয়া এই বোর্ড পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনো ক্ষতি হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে তার কারণ হচ্ছে যে, ক্রিকেটাররা খেললে প্রতিটা খেলায় তারা এক ধরনের ম্যাচ ফি পায়। খেলায় যদি কেউ পার্টিসিপেট করে, যদি ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয় অথবা কোনো ধরনের বিশেষ যদি তাদের কোনো পারফরমেন্স থাকে, সেটার জন্য আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের নিয়ম অনুযায়ী তারা যা পাওয়ার সেটা পাবে। ওটা হচ্ছে এক্সাক্টলি প্লেয়ারের পাওনা।’

এরসাথে বোর্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই জানিয়ে নাজমুল আরো বলেন, ‘এটার সাথে বোর্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। মানে বোর্ডের এখানে লাভ বা ক্ষতি কোনো কিছু নাই। বাংলাদেশ এখানে খেলুক বা না খেলুক, এখানে বোর্ডের লাভ ক্ষতির কোনো বিষয় নাই। অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য।’

২০২৩ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত লভ্যাংশ ভাগাভাগির মডেল অনুযায়ী আইসিসির সাথে চুক্তি আছে বিসিবি ও অন্যান্য বোর্ডের। তবুও বিসিবির কোনো ক্ষতি হবে না দাবি করে নাজমুল বলেন, ‘২০২৭ সাল পর্যন্ত আমাদের রেভিনিউতে কোনো কিছু হ্যাম্পার করবে না। কারণ হচ্ছে, ২০২২ সালের ২০২২ সালের যে আইসিসির ফাইনান্সিয়াল মিটিং হয়েছে, সেখানেই সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে।’

এসকেডি/আইএইচএস

Advertisement