খেলাধুলা

সেই সাবিনার নেতৃত্বে আরেকটি ইতিহাস

ফুটবলের ইনডোর ভার্সন ফুটসাল। লম্বা ইতিহাস ফাইভ এ সাইড এবং ৪০ মিনিটের এই প্রতিযোগিতার। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের রাজধানী মন্তেভিদেও'র হুয়ান কার্লোস সেরিয়ানি নামের একজন শারীরিক শিক্ষক ফুটসালের প্রবর্তন করেছিলেন। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা ১৯৮৯ সালে ফুটসালকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং ওই বছর প্রথম ফিফা ফুটসাল ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে নেদারল্যান্ডসে। প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। ফুটসালের সাথে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক পরিচয় হয় ২০১৮ সালে। ওই বছর বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল গঠন করা হয়েছিল এশিয়ান ফুটসালের জন্য।

Advertisement

বাংলাদেশের মেয়েদের ৮ বছর আগে ফুটসালে অভিষেক হলেও ছেলেদের হয়েছে মাত্র চার মাস আগে। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ছেলেদের দল পাঠায় গত বছর। ছেলে ও মেয়েদের মিলে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছে ৮টি। এশিয়ান কাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ নারী ও পুরুষ দল বড় ব্যবধানে হারলেও দক্ষিণ এশীয় প্রতিযোগিতায় এসে বাংলাদেশ শক্তিমত্তার পরিচয় দিতে পারছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বুধবার ছেলেরা প্রথম ম্যাচে ভারতকে ৪-৪ গোলে রুখে দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার মেয়েরা ভারতকে হারিয়ে দিয়েছে ৩-১ গোলে। ফুটসালের ইতিহাসে বাংলাদেশের এটি প্রথম জয়।

সাবিনা খাতুন দেশের নারী ফুটবলের কিংবদন্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচ থেকে ২০২৪ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছেন সাবিনা। লম্বা একটা সময় তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ পরপর দুইবার দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সাবিনাই বাংলাদেশের প্রথম নারী ফুটবলার যিনি বিদেশের লিগে খেলেছেন।

২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে জাতীয় দলের জায়গা হারান সাবিনা, কৃষ্ণা, মাসুরাম সানজিদা, নীলাসহ সিনিয়র পাঁচ ফুটবলার। সাবিনা, কৃষ্ণা, নীলা, সুমাইয়ারা পিটার বাটলারের বাতিলের খাতায় চলে গেলেও তাদের নিয়েই ফুটসাল জাতীয় দল গঠন করেছে বাফুফে। ইরানী সাঈদ খোদারাহমির কোচিংয়ে সেই সাবিনা-কৃষ্ণারা বাংলাদেশের নাম লিখে দিয়েছেন ইতিহাসের নতুন পাতায়।

Advertisement

২০১৮ সালে বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল মালয়েশিয়ায় উইমেন্স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিল সাবিনার নেতৃত্বে। সাতক্ষীরার এই গোলমেশিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল প্রথম খেলছে সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে। প্রথম জয়টিও এলো সাবিনার নেতৃত্বে। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডে প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করেছেন সাবিনা। অন্য গোলটি মাৎসুশিমা সুমাইয়ার।

এবার দেখা যাক আন্তর্জাতিক ফুটসালে মেয়েদের অভিষেকটা কেমন ছিল। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় উইমেন্স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি ম্যাচই বড় ব্যবধানে হেরেছিলেন সাবিনা-মাসুরারা। মালয়েশিয়ার কাছে হার ছিল ৭-১ গোলে। মাসুরা পারভীন দেশের হয়ে ফুটসালে প্রথম গোলদাতা। দ্বিতীয় ম্যাচে ভিয়েতনামের কাছে বাংলাদেশ হেরেছিল ৭-০ গোলে এবং শেষ ম্যাচে চাইনিজ তাইপের কাছে হেরেছিল ৬-১ গোলে। এই ম্যাচের গোলদাতা সাবিনা খাতুন।

পুরুষ দল গত বছর সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। ইরানের কাছে ১২-০ গোলে হেরে আন্তর্জাতিক ফুটসালে অভিষেক হয়েছিল পুরুষ দলের। দ্বিতীয় ম্যাচে ৭-১ গোলে হেরেছিল মালয়েশিয়ার কাছে এবং শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৮-২ গোলে হেরেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। চতুর্থ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ড্র করেছে পুরুষ দল আর জিতেছে মেয়েরা।

আরেকটি অর্জনের সাথে ইতিহাস হয়ে গেলেন সাবিনা খাতুন। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি দুইবার উঁচিয়ে ধরা সাবিনার সামনে আরেকটি সুযোগ। প্রথম সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানে সাবিনাদের বাংলাদেশ।

Advertisement

আরআই/এমএমআর