দেশজুড়ে

নোয়াখালীতে হিজড়া জনগোষ্ঠী ২ হাজার, ভোটার মাত্র ১৪

নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ ভোটার থাকলেও সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন মাত্র ১৪ জন। অথচ জেলায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করছেন। দীর্ঘদিনের সামাজিক অবহেলা আর নথিপত্রের জটিলতায় তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলেও, বর্তমানে গণভোট ও নির্বাচনের প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন করে ভোটার হতে শুরু করেছেন তারা।

Advertisement

জেলার নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ১৪ জন হিজড়া ভোটারের মধ্যে নোয়াখালী-২ আসনে ১ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ৮ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ৩ জন, এবং নোয়াখালী-৬ আসনে ২ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন। জেলার নোয়াখালী-১ আসনের চাটখিল ও সেনাইমুড়ী এবং নোয়াখালী-৫ আসনের কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলায় কোনো হিজড়া ভোটার তালিকায় নেই।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ৫ জন হিজড়াকে নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বুলবুল আহম্মদ বিকেলে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণা শুনে তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়ারা ভোটার হতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আজ আমরা পাঁচজন হিজড়াকে নতুন ভোটার করেছি।

Advertisement

নির্বাচন কর্মকর্তা আরও বলেন, এ পাঁচজন ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন এবং এতে করে সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসবেন।

নতুন ভোটার হওয়া হিজড়ারা হলেন, জোসনা আক্তার, শিফা বেগম, কলি আক্তার, জীবন আক্তার ও নীলা আক্তার। তারা চৌমুহনী করিমপুর গোরস্তানের পাশে খাল পাড়ে বসবাস করেন।

হিজড়া নীলা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, এর আগে আমাদেরকে ভোটার হতে পারবো তা কেউ বলেনি। এখন গণভোট ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার কথা শুনে আমরা ভোটার হতে এসেছি। অফিসের লোকজন আমাদেরকে ভোটার হতে সহযোগিতা করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশন ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২) সংশোধনের মাধ্যমে হিজড়াদের জন্য স্বতন্ত্র ক্যাটাগরি চালু করার পাশাপাশি স্বেচ্ছায় পুরুষ বা নারী হিসেবেও নিবন্ধনের সুযোগ রেখেছে। বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে। তবে বাস্তবে নোয়াখালীতে এর কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে এখানে হিজড়া ভোটারের সংখ্যা অতি নগণ্য।

Advertisement

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার লাকী হিজড়া বলেন, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলায় এখনো একজন হিজড়াও ভোটার তালিকাভুক্ত হয়নি। অথচ এসব এলাকায় দুই শতাধিক হিজড়া বসবাস করে। অনেকেই ছোটবেলা থেকেই আমাদের সঙ্গে থাকলেও তাদের বাবা-মায়ের কোনো কাগজপত্র নেই। ভোটার নিবন্ধনের জন্য যেসব কাগজ চাওয়া হয়, সেগুলো আমাদের অনেকের কাছেই নেই। ফলে চাইলেও আমরা মূলধারায় আসতে পারছি না।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আরিফুর রহমান বলেন, আমি প্রায় এক বছর ধরে এই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছি। এ সময়ে কোনো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ভোটার হতে আসেননি। আমাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলাকালে মাঠ পর্যায়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে কেউ ভোটার হতে এলে নির্বাচন অফিস সব সময় আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবে।

নোয়াখালীর সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোটার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি হিজড়া পল্লীতে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লেও রাষ্ট্র হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

নোয়াখালী জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, তথ্য এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদাভাবে ক্যারাভ্যান ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে জেলা নয় উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণ করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/কেএইচকে/জেআইএম