বিনোদন

অন্তর্বর্তী সরকারও এই শিল্পকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখেনি

 

নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। অবশেষে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির তারিখ পেয়েছে ছবিটি। একই দিনে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে উৎসবের ‘বাংলাদেশ প্যানারমা’য় দেখানো হবে আহমেদ হাসান সানি পরিচালিত এই ছবি। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। সাম্প্রতিক কাজ, সিনেমা মুক্তির প্রতিক্রিয়া, আসন্ন সিনেমা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই অভিনেতা কথা বলেন জাগো নিউজের সঙ্গে।

Advertisement

জাগো নিউজ: ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ কি রাজনৈতিক সিনেমা? ইমতিয়াজ বর্ষণ: পরিচালক এটিকে বলছেন ‘পলিটিক্যাল ফিলোসফিক্যাল জনরা’। অর্থাৎ, রাজনৈতিক ও দার্শনিক ঘরানার ছবি হিসেবে তিনি একে বর্ণনা করছেন। এই ছবিতে ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণ আন্দোলনসহ বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো প্রধান রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সেগুলোর প্রভাব এবং পরবর্তী ফলাফল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪-এর প্রেক্ষাপটকে ব্যাকড্রপে রেখে জেন-জি প্রজন্মের কাছে রাজনীতি কেমন এবং বাংলাদেশ নিয়ে তাদের ভাবনাগুলো গল্পের চরিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

জাগো নিউজ: ট্রেলার দেখে আপনার পরিচিতরা কী বলছেন? ইমতিয়াজ বর্ষণ: সিনেমার ট্রেলার এবং ‘আমায় দুঃখ দেবে যদি’ গানটি প্রকাশের পর থেকে দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। শুধু বন্ধু-বান্ধব বা শুভাকাঙ্ক্ষী নয়, সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও সিনেমাটি দেখার ব্যাপারে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জাগো নিউজ: জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ছবি মুক্তি, দর্শক কী যাবে ছবি দেখতে? ইমতিয়াজ বর্ষণ: ছবিটি মূলত আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শেষ না হওয়ায় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মুক্তির তারিখ পিছিয়ে ১৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল এটি ২০২৬ সালের প্রথম ছবি হিসেবে মুক্তি পাবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও মানুষ দিনশেষে বিনোদন খোঁজে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তারা ছবিটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Advertisement

জাগো নিউজ: এখন কী করছেন? ইমতিয়াজ বর্ষণ: শুটিং করছি আর অপেক্ষা করছি। ‘রেকর্ডিং’ (সাময়িক নাম) নামের একটি সিনেমার শুটিং চলছে, যেখানে আমার সহশিল্পী শারলিন ফারজানা, পরিচালক সৈকত রায়। এছাড়া, রাজিব সালেহিন পরিচালিত ‘রবি ইন ঢাকা’ সিনেমাটি বড়পর্দায় মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এখন পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে।

জাগো নিউজ: আপনি তো মঞ্চ থেকে টিভি, ওটিটি, বড়পর্দা সব মাধ্যমে কাজ করছেন। কোনটা ভালো লাগে? ইমতিয়াজ বর্ষণ: অভিনয়ের ক্ষেত্রে সিনেমা বা বড়পর্দাই সবচেয়ে পছন্দের। যদিও সরাসরি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য মঞ্চের আলাদা গুরুত্ব আছে। এখন ওটিটিতে ভালো বাজেট ও সময় নিয়ে কাজ হচ্ছে, তবু সিনেমার প্রতিই আমার আগ্রহ বেশি।

আরও পড়ুন: ফুচকাওয়ালা থেকে করপোরেট অফিস … প্রচুর টেক্সট আসেযে ঠাকুরগাঁওয়ে বসে গান করছে, তার কাছে বাজেটের কতটুকু যাচ্ছে

জাগো নিউজ: যত মানুষ হলে যাওয়ার কথা, সেরকম যাচ্ছে না, কেন? ইমতিয়াজ বর্ষণ: বর্তমানে সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে একাধিক সিনেমা দেখার সুযোগ থাকে না, সেখানে একটি সিনেমাই সপ্তাহ ধরে দেখানো হয়। তবে মাল্টিপ্লেক্স বা মাল্টিপল স্ক্রিনে দর্শকরা তাদের পছন্দ মতো সিনেমা বেছে নিতে পারেন। যদিও সিঙ্গেল স্ক্রিনের সংখ্যা দিন দিন কমছে, তবুও মাল্টিপ্লেক্সের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সিনেমা দেখার লোকের অভাব নেই, কিন্তু দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সঠিক পদ্ধতির অভাব।

Advertisement

জাগো নিউজ: চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী? ইমতিয়াজ বর্ষণ: নির্বাচনের পর নতুন গণতান্ত্রিক সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্ব দেবে এটাই চাই। যদি সরকারের সদিচ্ছা থাকে এবং তারা যদি সঠিক কিছু নীতিমালা তৈরি করে আর কারিগরি সহায়তা দেয়, তাহলে এই শিল্পের প্রকৃত শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে দাঁড়াতে সময় লাগবে না। বিগত সরকারগুলোর মতো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও এই শিল্পকে তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখেনি।

এমআই/আরএমডি