সানজানা রহমান যুথী
Advertisement
সম্প্রতি বিভিন্ন বিচ্ছেদের ঘটনাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। এই পরিস্থিতি নতুন করে তুলে এনেছে ভালো সঙ্গীর বিষয়টি। ভালো সঙ্গী ছাড়া কোনো সম্পর্ক সত্যিকার অর্থেই সুন্দর বা স্থায়ী হতে পারে না। কারণ একজন ভালো সঙ্গীই হলো সুন্দর সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি। তাই একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভালো সঙ্গী হওয়া খুবই জরুরি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন ভালো সঙ্গী কীভাবে হওয়া সম্ভব? এই গুণাবলীর মধ্যে রয়েছে মনোযোগ, শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া এবং আন্তরিকতা।
আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে একজন ভালো সঙ্গী হয়ে ওঠা যায়-
Advertisement
১. যোগাযোগ দক্ষতাসুস্থ সম্পর্কের একটি বড় বৈশিষ্ট্যই হলো ভালো যোগাযোগ। শুধু মনের কথা শোনাই নয় , বরং এমনভাবে কথা বলা ও শোনা যেখানে আপনি ও আপনার সঙ্গী উভয়ই একে অপরের বোঝেন ও সম্মানিত বোধ করেন। শুধু কথার উত্তর দেওয়ার জন্য শোনা নয় , সত্যি বোঝার জন্য শুনুন। আপনার সঙ্গী যা বলছে, তা নিজের ভাষায় আবার বলুন-যাতে সে বুঝতে পারে আপনি মনোযোগ দিচ্ছেন। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং বিশ্বাস বাড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খোলামেলা ও কার্যকর যোগাযোগ দাম্পত্য ও রোমান্টিক সম্পর্কের সন্তুষ্টি বাড়াতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দ্বন্দ্ব বা মতভেদ মেটানোর সময় একে অপরকে সমর্থনমূলক কথা বলা এবং নিজের অনুভূতির ওপর গুরুত্ব দেওয়াই কার্যকর যোগাযোগের অংশ-আর এটাই একজন ভালো সঙ্গীর পরিচয়।
২. শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা একটি সুন্দর ও সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হলো নিরাপত্তা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা খুবই জরুরি। সঙ্গীকে তার কথায় বিচার না করে মনোযোগ দিয়ে শোনা, সঙ্গীর ওপর কোনো প্রভাব শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি না করে তার সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা, ভুল করলে আন্তরিকতার সঙ্গে ক্ষমা করার মাধ্যমে আপনি আপনার সঙ্গীকে মানসিকভাবে নিরাপদ অনুভব করাতে পারেন।
৩. বিশ্বাস করাবিশ্বাস হলো সব সম্পর্কের মূল ভিত্তি। যেখানে বিশ্বাস নেই, সেখানে সম্পর্ক টিকে থাকে না। তাই একজন ভালো সঙ্গী হয়ে ওঠার জন্য সঙ্গীর নিকট বিশ্বাসী হয়ে ওঠা এবং সঙ্গীকে বিশ্বাস করা খুবই জরুরি। তাই ভালো সঙ্গী হওয়ার জন্য বিশ্বস্ততা অর্জন করা আপনার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী।
Advertisement
৪. পারস্পরিক সম্মান করা একটি সুন্দর সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান এক অদৃশ্য দেয়ালের মতো কাজ করে। যেখানে পারস্পরিক সম্মান একটি সম্পর্ককে বহুদূর নিয়ে যেতে সাহায্য করে। সঙ্গীর প্রতি সম্মান না থাকলে আপনি কখনোই ভালো সঙ্গী হতে পারবেন না। তাই সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলার সময় সবসময় খেয়াল রাখবেন আপনার কোন কথাতে যেন আপনার সঙ্গী অপমান, অসম্মান বোধ না করেন।
৫. সমঝোতা সম্পর্কে থাকা মানেই সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়। কখনো কখনো আপনার সঙ্গীর সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে বা সে এমন কিছু করতে চাইতে পারে যা আপনার একেবারেই পছন্দ নয়। এতে ‘না’ বলা আপনাকে খারাপ সঙ্গী প্রমাণ করে না। নিজের সীমা জানা ও তা সম্মান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে সমঝোতা বেশ জরুরি।
সমঝোতা মানে নিজের সবকিছু বিসর্জন দেওয়া নয় বরং এমন একটি মধ্যপন্থা খুঁজে নেওয়া, যেখানে দু’জনেরই মতামান ও গুরুত্ব বজায় থাকে। এতে বোঝা যায় সম্পর্ক আপনার কাছে কতটা মূল্যবান। সমঝোতার মাধ্যমে শুধু নিজের সমাধানেই জোর না দিয়ে সঙ্গীর দেওয়া প্রস্তাবিত বিকল্প উপায় গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। তাই ভালো সঙ্গী হতে হলে আপনাকে সমঝোতা করার মানসিকতা থাকতে হবে। তবেই আপনি একজন ভালো সঙ্গী হয়ে উঠবেন।
আরও পড়ুন: সম্পর্কে ব্যক্তিস্বাধীনতা না থাকলে কী হয় সঙ্গী আপনাকে ‘পকেটিং’ করছে বুঝবেন যেভাবে
এসএকেওয়াই/