রাজধানীর উত্তরার একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই নেমে আসে শোকের ছায়া। এতে দুই পরিবারের ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে, যা পুরো এলাকাজুড়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ঘটনার পর ভবনটি ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় জমে ওঠে। এ কারণে ভবনটির প্রধান ফটক ক্রাইম সিন হিসেবে ঘিরে রাখা হয়েছে।
Advertisement
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাসার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আগুনে লাগে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাততলা ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। জানালা ও বারান্দার কাচের দরজাগুলো ভেঙে গেছে। ভবনটির সামনে সড়কে উৎসুক জনতার ভিড় করছেন। ভবনের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে উৎসুক জনতার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সিআইডির ক্রাইম সিন টেপ দিয়ে ভবনটির প্রধান ফটক ঘিরে রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ সেক্টর-১১ নম্বরের ১৮ নম্বর সড়ক এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে খবর পেয়ে উত্তর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
Advertisement
তিনি বলেন, প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন— একই পরিবারের ফজলে রাব্বী (৩৮), হারিস (৫২) ও রাহাব (১৭)। নিহত বাকি তিনজন হলেন— আফসানা, রোদেলা আক্তার (১৪), আড়াই বছর বয়সী শিশু রিসান ও রাফসানা।
এদিকে রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছে পুলিশ। এদিন দুপুরে নিজ কার্যালয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছি। গ্যাস সংযোগ অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের তদন্তে পরবর্তীতে জানা যাবে। এখন পর্যন্ত ছয়জন নিহত হয়েছে। একই পরিবারের তিনজন এবং বাকি তিনজন আরেক পরিবারের।
Advertisement
কেআর/এমএএইচ/এমএস