রাজনীতি

হোঁচট খেলো জামায়াত

আসছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর জোট আর ভোটের হিসাব-নিকাশ চলছে। নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন হয়ে গেছে তাদের।

Advertisement

অন্যদিকে, এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দেশের বড় ইসলামিক দল জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি সমভাবাপন্ন দলগুলো নিয়ে গঠিত হয় জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি একটি দল। ঘোষণা আসে আলাদাভাবে নির্বাচন করার।

দফায় দফায় নির্বাচনি শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ১৫ জানুয়ারি ১৭৯ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৭, বিডিপি ২ ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে লড়বে জামায়াতের সঙ্গে জোটের হয়ে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের জাগো নিউজকে বলেন, বৈঠকে ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’ নতুন নাম চূড়ান্ত করা হয় এই জোটের। অন্যদিকে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জোটে যাকে যেখানে দেওয়া হয়েছে তারা ১১ দলের এবং দেশবাসীর ক্যান্ডিডেট।

Advertisement

আরও পড়ুন:১৭৯ আসনে ভোটে লড়বে জামায়াতঢাকার ৬টিসহ যেসব আসনে নির্বাচন করবে এনসিপিযে ২০ আসন পেলো মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রার্থী ঘোষণার সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, কিছু আসনে ঝামেলা হয়েছে, এটি প্রত্যাহারের পর ঠিক হবে।

অন্যদিকে, অনেক নাটকীয়তার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ২৬৮ আসনে নিজেদের প্রার্থীদের এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে দলটি। বাকি ৩২টি আসনে পছন্দের কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে তারা। অর্থাৎ ৩০০ আসনেই ইসলামী আন্দোলন ভোটের মাঠে থাকছে এবার।

দল দুটির এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থিদের ভোট এক কাতারে আনার উদ্যোগ থমকে গেলো বলে মনে করছেন অনেকে।

Advertisement

তবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এ জোট নিয়ে আকাঙ্ক্ষার জায়গা আছে, এটা জনগণ বোঝে। নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের উত্তোরণ করবো, এটা আমাদের প্রত্যাশা। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে জোট প্রক্রিয়া হওয়ায় কিছু মতভিন্ন হয়েছে, এটা কেটে যাবে।

কেন সমঝোতা হলো না সে ব্যাপারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামের মৌলিক নীতির বিষয়ে জামায়াতে ইসলামের অস্পষ্ট অবস্থান ও রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে তাদের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় নেই ইসলামী আন্দোলন। তিনি আরও বলেন, জামায়াত শরিয়াহ আইনে দেশ পরিচালনা করবে কি না এমন প্রশ্নে তাদের আমির জানান, ক্ষমতায় এলে তারা প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। অথচ দেশের বর্তমান দুর্দশার মূল কারণ হলো বিদ্যমান আইন। সেই আইন পরিবর্তনের জন্যই আমাদের রাজনীতি। যদি সমঝোতার প্রধান দলই বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে, তাহলে আমাদের উদ্বেগ জন্মায়। আমরা নীতির রাজনীতি করি এবং মৌলিক নীতি নিয়ে যখন ভিন্নমত তৈরি হয়, তখন তাদের সঙ্গে সমঝোতায় থাকার কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন:জোটে নয়, ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে ইসলামী আন্দোলনযেসব কারণে জামায়াতের জোট ছাড়লো ইসলামী আন্দোলন

গাজী আতাউর রহমানের বক্তব্যের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, গাজী আতাউর রহমান ‘আল্লাহর আইন ও ইসলামী আদর্শ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন দিকে চলে গেছে’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তাও সঠিক নয়। আমরা মনে করি, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই তিনি এমন মন্তব্য করেন। গাজী আতাউর রহমানের আরেক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আচরণ করে। জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এমন বক্তব্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বানও জানান তিনি।

জানা গেছে, আসন ভাগাভাগির হিসাব-নিকাশকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের ভাঙন ধরে। শুরু থেকেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একধরনের সমভাবাপন্ন মানসিকতা ছিল। ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ৭০-৮০টি আসন নেওয়ার। বিপরীতে জামায়াতের চেষ্টা ছিল তাদের ৩০-৩৫ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। এটি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত ছিল। শেষ পর্যন্ত জামায়াত ৪০, পরে ৪৫ আসনে ছাড় দিতে রাজি হলেও ইসলামী আন্দোলন তা মেনে নেয়নি। এতে জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সন্দেহ তৈরি হয়, এটি কেবল আসনের দাবি, নাকি ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা। শেষ পর্যন্ত ভোটের হিসাব বিশ্লেষণ করে জামায়াত সিদ্ধান্ত নেয়, ইসলামী আন্দোলন ছাড়া ১০ দল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া তুলনামূলকভাবে তাদের জন্য সুবিধাজনক।

এসএনআর/জেআইএম