দেশজুড়ে

শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করেই দানবে পরিণত হয়েছেন

শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করে দানবে পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

Advertisement

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের আরডিআরএস বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার’ বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বদিউল আলম বলেন, শেখ হাসিনা কিন্তু ট্যাংকে চড়ে ক্ষমতায় আসেননি, শেখ হাসিনা উড়ে-পড়েও ক্ষমতায় আসেননি। শেখ হাসিনা এসে সংবিধান বাতিলও করে দেননি, যদিও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করেছেন, পুনর্লিখন করেছেন।

কিন্তু সেই স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করে তিনি (শেখ হাসিনা) কিন্তু দানবে পরিণত হয়েছেন। এ স্বৈরাচারী কাঠামো যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদেরও স্বৈরাচারী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Advertisement

আমরা যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রদর্শন না করি, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ উত্তর হলেও এবং এগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলেও আমরা যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হবো, তা কিন্তু নয়। কারণ এটা বহুলাংশে নির্ভর করে আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর। আমরা যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রদর্শন না করি, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আমরা যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না আনি, তাহলে আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ হবে না।

সুজন সম্পাদক বলেন, আমি আশা করি যে, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। একটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে হয়, এ ব্যাপারে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের প্রার্থীরা সদাচরণ করবে। সরকার তার ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করবে, নিরপেক্ষভাবে পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবে এবং নির্বাচন কমিশন তারা নিরপেক্ষভাবে আইন বিধিবিধান প্রণয়ন করবে বলে আমরা আশা করি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এখন যেটা মনে রাখতে হবে, এ সরকার কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। এ সরকার হলো গণঅভ্যুত্থানের সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আইন, আইনি কাঠামো ছিল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব ছিল তিন মাসের জন্য। নির্বাচন করে তারা কোনোরকম নীতিগত বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতো না এবং তারা তিন মাস পরেই তারা বিদায় নিত।

কিন্তু এ সরকার এসছে কতগুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে-নির্বাচন, সংস্কার এবং বিচার। এ সংস্কার করার জন্য তারা ১১টা সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। তাই সরকার এ সংস্কার করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং তাই তারা এ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারে।

Advertisement

জিতু কবীর/আরএইচ/জেআইএম