পানি পান করা আমাদের প্রতিদিনের এমন একটি কাজ, যা নিয়ে আলাদা করে তেমন ভেবে দেখাই হয় না। কিন্তু শরীরের জন্য এর গুরুত্ব একবার জানলে আপনি ভাবতে বাধ্য হবেন যে, দিনে আসলে কতটা পানি পান করা উচিত? নাকি শরীরের চাহিদা মানুষ ভেদে বদলায়?
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানির চাহিদা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে বেঁধে দেওয়া যায় না। বয়স, শরীরের ওজন, কাজের ধরন, আবহাওয়া এমনকি শারীরিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করে একজন মানুষের দৈনিক পানির প্রয়োজন আলাদা আলাদা হতে পারে।
আমাদের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশই পানি। হজম, রক্ত সঞ্চালন, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য বের করে দেওয়া — সবকিছুর জন্যই পানি অপরিহার্য। তাই পানি কম খেলে শরীর দ্রুত তার সংকেত দিতে শুরু করে।
পানিশূন্যতার লক্ষণগুলো কী?শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হয়ে যায়। অনেক সময় অকারণে ক্লান্ত লাগতে পারে, মাথা ঝিমঝিম করে, মনোযোগ কমে যায়। মাথাব্যথা করা শরীরে পানিশূন্যতার একটি সাধারণ লক্ষণ। এছাড়া দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত পানি না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনির সমস্যা এমনকি রক্তচাপের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
Advertisement
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে গড়ে ২ থেকে ২.৫ লিটার পানি একটি সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে ধরা হয়। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, গরম আবহাওয়ায় থাকেন বা বেশি ঘামেন — তাদের পানির চাহিদা আরও বেশি হতে পারে।
তাই একটি সহজ নিয়ম হলো, শরীরের কথা শোনা। তৃষ্ণা লাগলে পানি পান করুন। প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকলে ধরে নিতে পারেন শরীর পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে।
শুধু পানি পান করা নয়, খাবার থেকেও পানি পাওয়া যায়ফল, সবজি, স্যুপ, ডাল — এসব খাবার থেকেও শরীর পানি পায়। বিশেষ করে শসা, তরমুজ, কমলা, টমেটোর মতো খাবারে পানির পরিমাণ বেশি।
অতিরিক্ত পানি কি ক্ষতিকর?পানি ভালো বলেই জোর করে অনেক বেশি পানি পান করা আবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরের সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যাকে বলা হয় ওয়াটার ইনটক্সিকেশন। তবে এটি সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক মাত্রায় পানি পান করলে ঘটে।
Advertisement
মনে রাখবেন, পানি কোনো ট্রেন্ডি ডায়েট নয়, এটি দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন। দিনে একবার বেশি পানি খেয়ে আগের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া যায় না। তাই সারাদিনে অল্প অল্প করে পানি পান করাই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।
সূত্র: ওয়েবএমডি, হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ
এএমপি/জেআইএম