রাজনীতি

দ্বৈত নাগরিক-ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে সুযোগ দিলে রাজপথে নামবো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিক এবং যারা ঋণখেলাপি তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে আইনি লড়াই এবং রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

Advertisement

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ বলেন, সংবিধানে এবং আরপিওতে উল্লেখ আছে কারও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। এরপরও আমরা দেখলাম যে অনেকেই দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে গুন্ডামি করছেন, নির্বাচন কমিশনে একেকজন ২০০-৩০০ লোক নিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য এবং আমরা দেখতে পাই যে, নির্বাচন কমিশনও নানা ধরনের ইন্টারপ্রিটেশন (ব্যাখ্যা), নানা ধরনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে তাদের বৈধতা দানের এক ধরনের প্রবণতা আমরা দেখতে পেয়েছি। যেটা আমাদের দেশের জন্য, আমাদের দেশের সংবিধানের জন্য, নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, আমরা এটা স্পেসিফিকলি দেখতে পাচ্ছি বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষ থেকে। বিএনপি নিজেদের গণতান্ত্রিক, গণতন্ত্রের ধারক-বাহক, গণতান্ত্রিক বলে বিভিন্ন জায়গায় বলে আসছে এবং মনে করে। কিন্তু তাদের কাজকর্মে আমরা দেখি যে তারা সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি টার্ন নিয়ে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের সংবিধানের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের যে লুটেরা শ্রেণি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, যারা দেশটাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে লুট করে বিদেশে নাগরিকত্ব নিয়েছে, বিদেশে বাড়িঘর করেছে, বিদেশে সম্পত্তির পাহাড় করেছে এবং এখন আবার যখন গণতন্ত্রের সময় এসেছে, যখন নির্বাচনের সময় এসেছে, আবারও জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য দেশে এসে সেই দ্বৈত নাগরিকত্বসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পাঁয়তারা করছে।

Advertisement

আরও পড়ুনইসিতে আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও হাসনাত আবদুল্লাহর হট্টগোলকাউকে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে আবার তাদের কাছেই ভোট চাইবেন, তা হবে না

তিনি বলেন, আপনারা যদি জনপ্রতিনিধি হতে চান তাহলে প্রকৃত অর্থে প্রথমে বাংলাদেশের, এককভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হন, আমরা কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশের নির্বাচন করতে দেবো না। কোনোভাবে যদি নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করার কিংবা কোনো ধরনের ইন্টারপ্রিটেশন দেওয়ার কিংবা এর মধ্যদিয়ে তাদের এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে তাদের প্রার্থিতা বৈধ করার কোনো চেষ্টা করে, তাহলে আমরা আইনি লড়াই লড়বো এবং একই সঙ্গে রাজপথেও নামবো।

সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা এই নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছি প্রথমদিন থেকে এবং আমরা বিভিন্ন জায়গায় তাদের অনেক অনেক ঘাটতি সত্ত্বেও তাদের এই যে একপাক্ষিক অবস্থান নেওয়াটা সেটা আমরা একদম যাচাই-বাছাই পর্যায় থেকে দেখে আসছি। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি তাদের সময়-সুযোগ দেওয়ার, যেন তারা এগুলো ঠিক করে নেয়। কিন্তু আজকের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং আগামীকাল আবার এফিডেভিটের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশের নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ার যেই কথাগুলো আমরা শুনেছি, তারপর আমরা তাদের আর কোনো ধরনের সুযোগ দেবো না।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আগামীকাল যদি আমরা দেখি যে কোনো ঋণখেলাপি, কোনো দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কেউ নির্বাচন করার যোগ্যতা পাচ্ছেন সেটা যে শর্তেই হোক, যেই ইন্টারপ্রিটেশনের মধ্যদিয়েই হোক; আমরা সেটার বিরুদ্ধে রাজপথে নামবো; আমরা সেটার বিরুদ্ধে আমাদের পরবর্তী আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। আমরা কোনোভাবেই এই নির্বাচন কমিশনকে পূর্ববর্তী তিনটি নির্বাচন কমিশনের মতো একটা দায়সারা নির্বাচন এবং একপাক্ষিক নির্বাচন, সেটেল নির্বাচন আয়োজন করার সুযোগ দেবো না।

Advertisement

তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের জোট শরিকদের নিয়ে বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি ডিল করবে এবং বিষয়টি এ ধরনের কোনো কিছু ঘটা থেকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য কাজ করবে। আমরা দেখেছি যে বিশেষ করে যেই দলগুলো বিগত সময়ে ক্ষমতায় ছিল তাদের মধ্যে স্পেসিফিকলি এই প্রবলেমগুলো বেশি যে, তাদের প্রার্থীরা ঋণখেলাপি, একজন তিন-তিনটা ব্যাংকের ঋণখেলাপি, একজন ১৯০ কোটি, ২০০ কোটি, ৫০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি এবং এই টাকাগুলো আমার দেশের জনগণের। এই টাকা ফেরত না দিয়ে তারা বারবার একের পর এক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চাচ্ছেন কিংবা প্রতিনিধিত্ব করতে না পারলে বিদেশে গিয়ে আরামে জীবন যাপন করছেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টিরও ৪৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সেখানে একজন ব্যতীত বাকি সবাই নিষ্কণ্টকভাবে তাদের মনোনয়নের বৈধতা পেয়েছেন। আমরা এই নতুন বন্দোবস্তের কথাই সবসময় বলে এসেছি এবং এই নতুন বন্দোবস্তের পথেই আমরা যেতে চাই। এটাই প্রমাণ করে যে জাতীয় নাগরিক পার্টি এই যারা তথাকথিত গণতান্ত্রিক কিন্তু লুটেরা রাজনৈতিক দলগুলো যারা আছে, তাদের থেকে কোন জায়গায় আলাদা এবং বাংলাদেশের জনগণ এই পরিবর্তনটা দেখেই তাদের ম্যান্ডেট দেবে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের একটা উদীয়মান রাজনৈতিক দল হিসেবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের থেকে উঠে আসা একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা কোনোভাবেই আপনাদের সেই সুযোগ দেবো না। যদি কোনোভাবে আপনারা নির্বাচন কমিশনকে ম্যানেজ করে কিংবা এই ফ্যাসিবাদী সিস্টেম যেটা আমরা দুঃখজনকভাবে গত দেড় বছরেও পুরোপুরি পরিবর্তন করতে পারিনি, সেটার মধ্যদিয়ে আপনারা বৈধতা পেয়ে যান তাহলে মনে রাখবেন আপনাদের রাজপথে প্রতিরোধ করা হবে, আপনাদের আসনে প্রতিরোধ করা হবে, সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চালাবো, কিন্তু কোনোভাবেই আপনাদের আমরা শান্তিতে এখানে নির্বাচন করতে, দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেবো না।

এনএস/ইএ