আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫, রাত থেকে জ্বলছে আগুন

পাকিস্তানের করাচিতে গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে এমএ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত ভবনটিতে লাগা আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুন নেভানোর পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানও চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

রোববার সকালে করাচির দক্ষিণাঞ্চলের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা জানান, সবশেষ তথ্য অনুযায়ী পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. সাবির মেমন জানিয়েছিলেন, তিনটি মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়, যারা সবাই আগেই মারা গিয়েছিলেন।

রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র হাসানুল হাসিব খানও মৃতের সংখ্যা পাঁচ বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রোববার ভোর পর্যন্ত আগুন প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন>>পাকিস্তান সীমান্তে ফের বোমা বিস্ফোরণ, ৬ পুলিশ সদস্য নিহত৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপলো পাকিস্তানজেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান নিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে কী আলোচনা হলো?

Advertisement

রেসকিউ কর্মকর্তারা জানান, গুল প্লাজায় প্রায় ১ হাজার ২০০ দোকান রয়েছে। এসব দোকানে ক্রোকারিজ, পোশাক, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, প্রসাধনী ও পারফিউমসহ দাহ্য পণ্য থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

আগুন নেভাতে রোববার সকালে বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের অন্তত ২০টি ফায়ার টেন্ডার কাজ করছিল। তবে ভবনটি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় আগুনের তাপে যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র।

এর আগে তিনি জানান, ভবনের নিচতলার দোকানগুলো থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। এদিকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এধি ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতায় ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে।

গার্ডেন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) মোহসিন রাজা প্রাথমিকভাবে জানান, কোনো একটি দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পুরো মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Advertisement

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সিন্ধুর গভর্নর কামরান তেসোরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম ও ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন গভর্নর।

এর এক দিন আগেই করাচি পোর্ট ট্রাস্ট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে বৈদ্যুতিক ব্যাটারি ভর্তি অন্তত ২০টি কনটেইনার পুড়ে যায়।

সূত্র: ডনকেএএ/