নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমকে দেখে উচ্চস্বরে ‘দালাল’ বলে স্লোগান দিয়েছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
Advertisement
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে এই ঘটনা ঘটে।
দুপুর ১২টা থেকেই ভবনটির সামনে অবস্থান নিয়ে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান এক হও, লড়াই করো’, ‘শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু নিয়ে মববাজি, চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু চাই শাকসু দাও, নইলে গদি ছাইড়া দেও’, ‘দালালদের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘শাকসু মোদের অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ ইত্যাদি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমের গাড়ি প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে থামে। তিনি গাড়ি থেকে বের হলে আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে ‘দালাল দালাল’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তবে উপ-উপাচার্য কোনো জবাব না দিয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
Advertisement
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘শাকসু ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা কোনো বিশেষ সংগঠনের না, এটি শাবিপ্রবির সব শিক্ষার্থীর। সেটি মাথায় রেখে যখন যে সহযোগিতা প্রয়োজন হয়েছে আমি করেছি। তবে এখন আমার মনে হচ্ছে এর মধ্যে অনেক নোংরামি ঢুকে গেছে। যেটি টের পেয়ে হয়তো কিছু শিক্ষার্থী যারা প্রার্থী ছিলেন তারা রিট করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আপিল করা হয়েছে। আজ আমি অফিস করি, এটি শিক্ষার্থীদেরই দাবি ছিল। অফিসে আসার সময় ঘটনাটি ঘটেছে। যাদের নাম শুনছি সবাই একটা বিশেষ সংগঠনের।’
এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরকে অবরুদ্ধ রাখেন। রাত ১টায় দুই শর্তে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। শর্ত দুইটি হলো—রিট খারিজ ও উপাচার্যের ক্যাম্পাস ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা।
শাকসুর দাবিতে চলা আন্দোলনে অংশ নিয়ে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ চেম্বার আদালত বসবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে আবেদন করা হবে। এরপর শুনানি হলে রায় আসবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে। রায় আমাদের পক্ষে না এলে কঠোর কর্মসূচি দেবো।’
Advertisement
এসএইচ জাহিদ/এসআর/এমএস