দেশজুড়ে

‘আ’লীগের দোসরদের প্রতীক দিলে নির্বাচন হতে দেব না’

রাজশাহীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দের সময় প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী জেলার সাবেক সমন্বয়ক মো. নাহিদুল ইসলাম সাজু।

Advertisement

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আফজাল হোসেনের প্রতীক বরাদ্দের সময় তিনি প্রতিবাদ জানান।

এসময় নাহিদ ইসলাম সাজু বলেন, ‘রাজশাহীতে যদি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো সহযোগী বা দোসরকে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে ও রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’

প্রতিবাদের জবাবে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার তাকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করার পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে ও কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Advertisement

এরপর নাহিদ ইসলাম সাজু জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার বরাবর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেন।

এতে বলা হয়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন সহযোগী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ সকল ব্যক্তি ও দল অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করেছে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে স্বৈরাচার ও তার দোসরদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা জরুরি। সংবিধান, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’

তারা স্মারকলিপিতে তিন দফা দাবি জানান। এগুলো হলো- ১। আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও দলের মনোনয়নপত্র ও প্রতীক বরাদ্দ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

Advertisement

২। যেসব প্রার্থী অতীতে অবৈধ নির্বাচন, ভোট কারচুপি ও দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের প্রার্থিতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩। নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

সাখাওয়াত হোসেন/এমএন/এমএস