খেলাধুলা

ফাইনালে ওঠার লড়াই: সিলেটকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিল রাজশাহী

শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত, এরপর হঠাৎ ব্যাটিং ধ্বস। এরপর ইনিংস গড়া এবং দুর্দান্ত ফিনিশিং। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ব্যাটিং ইনিংসের সারাংশ এটাই। টস হেরে ব্যাট করেতে নেমে সাহিবজাদা ফারহান ও তানজীদ হাসান তামিম এনে দেন দুর্দান্ত শুরু।

Advertisement

এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিমরা আগেভাগে ফিরে গেলে চাপে পড়ে দলটি। তবে কেন উইলিয়ামসন ঠিকই একপ্রান্ত আগলে ছিলেন, পরে উইকেটে এসে রানের গতি বাড়িয়ে দেন জিমি নিশাম। উইলিয়ামসন শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে রাজশাহীকে এনে দেন ১৬৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার বিপিএলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আগে ব্যাটিং করে ১৬৫ রান করেছে রাজশাহী। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন কেন উইলিয়ামসন। এছাড়া ৪৪ রান আসে নিশামের ব্যাট থেকে। সিলেট টাইটান্সের হয়ে ৩ উইকেট নেন সালমান ইরশাদ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে এদিন দুর্দান্ত শুরু পায় রাজশাহী, প্রথম ২ ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ২৬ রান। এর ২৩ রানই আসে শাহিবজাদা ফারহানের ব্যাট থেকে। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তাকে ফিরিয়ে দেন সিলেটের পাকিস্তানি বোলার সালমান ইরশাদ। এতে ভাঙে ৪১ রানের জুটি। ফারহান করেন ২১ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৬ রান। এরপর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মঈন আলিকে ৩ ছক্কা হাঁকান রাজশাহীর ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম। এতে দলটির স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৬১ রান।

Advertisement

পাওয়ার প্লের পরের ৪ ওভারে রাজশাহীকে বড় ধাক্কা দেয় সিলেট। ১০ম ওভারে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমকে টানা দুই বলে ফেরত পাঠান সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০ ওভার শেষে রাজশাহীর স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৭৯ রান। অর্থাৎ পাওয়ার প্লের পরের ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান তুলতে পেরেছে শান্তর দল।

এরপর মেহরাব হোসেন জুনিয়রও ফিরে যান আগেভাবে। ৬১ রানে ১ উইকেট থেকে ৫ উইকেটে ৮০ রানে পরিণত হয় রাজশাহী। মাত্র ১৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে যোগ দেন স্বদেশী জিমি নিশাম। আগে থেকে একপাশ আগলে ইনিংস টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন উইলিয়ামসন, নিশাম এসে স্কোরবোর্ডের চাকাতেও গতি বাড়ান। ১২ আর ১৫, দুই ওভারেই দুটি করে চার হাঁকান এই বাঁহাতি ব্যাটার। ১৫ ওভারে রাজশাহীর রান ছিল ৫ উইকেটে ১১৬ রান।

১৬তম ওভার করতে আসা খালেদ আহমেদকে দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকান জিমি নিশাম। ঠিক পরের বলে কাভারে তার সহজ ক্যাচ ফেলেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তখন ১৮ বলে ৩১ রানে ব্যাটিং করছিলেন নিশাম। ১৭তম ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন সিলেটের ইরশাদ। ওই ওভার থেকে মাত্র ৬ রান নিতে পারেন উইলিয়ামসন ও নিশাম। পরের ওভারে ৪ মেরে শুরু করেন উইলিয়ামসন। ওভারের শেষ বলে মিড উইকেট দিয়ে নিশাম হাঁকান বিশাল এক ছক্কা। ওই ওভার থেকে আসে ১৪ রান।

পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্রিস ওকসকে ছক্কা হাঁকান কেন উইলিয়ামসন। এক বল পর ছক্কা হাকাতে গিয়ে আউট হন নিশাম। ওকেসের শিকার হয়ে ফের আগে খেলেন ৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ২৬ বলের ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ২ ছক্কা। শেষ ওভারে মাত্র ৭ রান এসে দেড়শ ছাড়ানো পুঁজি পায় রাজশাহী। ৪৫ রানে অপরাজিত থেকে যান উইলিয়ামসন।

Advertisement

এসকেডি/আইএইচএস/