অর্থনীতি

জিডিপিতে ১৩ শতাংশ অবদান থাকলেও সরকারের ১৩ মিনিট সময় নেই

জিডিপিতে ১৩ শতাংশ অবদান থাকলেও এ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের ১৩ মিনিট সময়ও নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

Advertisement

তিনি বলেন, দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে জাতীয় ক্রাইসিস এবং ইমার্জেন্সি চলছে। সুতা আমদানিতে বন্ড প্রত্যাহার নিয়ে পোশাক খাতের অন্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো বিভেদ নেই। ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যেসব ভুল করেছে তার দায় পরবর্তী সরকারের ওপর গিয়ে পড়বে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে সংগঠনটি আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা প্রদান ও স্পিনিং খাতের অস্তিত্ব রক্ষায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। এতে সভাপতিত্ব করেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

তিনি বলেন, পোশাক খাতের সংগঠনগুলোর সঙ্গে আমাদের কোনো বিভেদ নেই; বিজিএমইএ আমাদের পার্টনার, বিকেএমইএও আমাদের পার্টনার। আমি কোনো ব্লেইম গেমে যাবো না। এখন যেটি হচ্ছে সেটি ব্লেইম গেম।

Advertisement

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, আমাদের চিঠিগুলো তো আমরা মন্ত্রণালয়েই পৌঁছাই, অর্থের যেটি সেটি অর্থে, বাণিজ্যের যেটি সেটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গেও আমরা দেখা করেছি। কিন্তু ওনার শারীরিক ও মেন্টাল যে মুভমেন্ট লক্ষ্য করেছি, ওনারা বেশিদিন আর নেই, মনে হয় না আমাদর নিয়ে আলোকপাত করার কোনো স্কোপ উনি দিয়েছন বা দেবেন। পজিটিভ কোনো মুভমেন্ট দেখি না। উনি যে এই খাতকে নিয়ে চিন্তিত সেটিও লক্ষ্য করিনি। উনি এই খাত নিয়েও চিন্তিত নন। বাণিজ্যও একটি বিষয় বারবার এড়িয়ে যায়। ওনারা বলেন আপনারা নেগোশিয়েট করেন।

তিনি বলেন, আমি আমার গার্মেন্টসের ভাইদেরও দোষ দিই না। ওনারা যদি কম দামে পান, তাহলে ওনারা কী করবেন? একবার টেক্সটাইল যখন ডিফল্ট করে তখন নতুন করে টাকা এনে সেই টেক্সটাইল স্টার্ট করা অসম্ভব। কিন্তু সেই ফ্যাক্টরি অনেক বড় একটি সম্পদ। এই সম্পদ আস্তে আস্তে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গত ২২ মাসে ভারত থেকে ১৩৭ শতাংশ সুতা আমদানি বেড়েছে। তার মধ্যে শতভাগই ধরতে পারেন ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের।

টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে জাতীয় ক্রাইসিস চললেও সরকারের আলোকপাত নেই মন্তব্য করে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, এটি একটি ক্রাইসিসি, এটি জাতীয় ক্রাইসিস, এটি ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি একটি ব্যাপার। কিন্তু সরকার আলোকপাত করছে না। খালি পিলো পাসিং চলছে। এর দায়িত্ব ওর কাঁধে দেয়, ওর দায়িত্ব তার কাঁধে দেয়। আর আমাদের মধ্যে একটি ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করার সুযোগ তৈরি করে দেয়- বিটিএমইএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ; তারা আমাদের বন্ধু। তারা যেটি আবদার করছে সেখানেও ঝুক্তি আছে। সে যদি কম টাকায় পায় সে কেন বাড়তি দামে কিনবে? সে কম টাকায় পাচ্ছে কেন সেটি আমাদরে খতিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার সব যায়গায় ভুল করছে..., এর পরে দোষটি গিয়ে পড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর। বলবে তোরা ফেইল করেছিস। দেশের জন্য এটি খুব বিপদের। আপনি (সরকার) আপনার দায়িত্ব পালন করছেন না। জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষতি হচ্ছে। কর্মসংস্থান নষ্ট হচ্ছে। ব্যাংক-বিমা সবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাহলে আপনাকে কাঠগড়ায় আনা হবে না কেন? আমরা ভীষণ ভয়াবহ একটি সময় পার করছি।

Advertisement

বিটিএমএ সভাপতি আরও বলেন, আমার খুব কষ্ট লাগে, দুঃখ লাগে, লজ্জা লাগে- বারবার আপনাদের ডেকে এনে সরকারের সঙ্গে আমাদের কমিউনিকেট করতে হয়। যেখানে জিডিপিতে আমাদের অংশীদারত্ব ১৩ শতাংশ, তুমি মাসে ১৩ দিন আমাদের জন্য বরাদ্দ রাখতে পারো, বছরে একটা দিনও দেয় না আমাদের!

তিনি বলেন, আমাদের কোনো ভয়েস নেই। ডেকে নিয়ে আমাদের কাছ থেকে আইডিয়া নেওয়া উচিত। জিডিপির ১৩ শতাংশ অবদান আমাদের, অথচ ১৩ মিনিট সময়ও কোনোদিন দেয়নি আমাদের এই সরকার। মিটিংয়েই অ্যালাউ করে না। কিন্তু ওনাদের এই নেতা, ওই নেতার সঙ্গে মিটিং করার জন্য যথেষ্ট সময় আছে। এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মিটিং করবে, সময় দেবে। ওমুক দলের নেতাদের সঙ্গে মিটিং করবে। মুখে মুখে বলেন, আমরা অর্থনীতির চালিকাশক্তি। আমাদের জন্য কিন্তু ওনাদের সময় নেই।

এদিকে, সাতদিনের মধ্যে ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব স্পিনিং মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মিল মালিকরা।

সংগঠনটি বলছে, পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্তের কারণে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারের ওপর পড়বে। ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়-দেনা পরবর্তীতে আর আমাদের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। এর ফলে ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে। সম্প্রতি ক্রিকেট খেলার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে সরকারের মধ্যে যে দেশ প্রেম আমরা অবলোকন করেছি তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন দেশীয় টেক্সটাইল শিল্প রক্ষায় দেখছি না, যার কারণ আমাদের কাছে বোধগম্য নয় । এর পেছনে অন্য কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি না তা ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।

ইএইচটি/ইএ